আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ সমর্থন করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র দফতের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন।
হুকারের পোস্ট অনুযায়ী, তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘পাকিস্তান ও তালেবানের সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা’ জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছি এবং তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় পাকিস্তানের অধিকারের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, আফগান হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ২৯৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ৮৯টি সেনা চৌকি, ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামের সাররিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করছে, অভিযানে বহু তালেবান সদস্য নিহত হয়েছেন।
অপর দিকে, আফগানিস্তানও পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই উত্তেজনার মধ্যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তালেবান সরকারের যেকোনো অপতৎপরতায় ইসলামাবাদ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেছেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশের রক্ষায় প্রস্তুত।
সদ্যই ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সেখানে একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী এবং শক্তিশালী সেনাপ্রধান আছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর সম্মান প্রকাশ করি। আমার মনে হয়, পাকিস্তান এখন অসাধারণভাবে ভালো করছে।”
আফগান সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাতও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ‘আরও শক্তিশালী এবং দৃঢ় ও কার্যকর জবাব’ পাবে। এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এই সংঘাত পাকিস্তান-আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের সামরিক কর্মকাণ্ড সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।