আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত সমাধানের জন্য সংলাপের মাধ্যমে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্ত আফগান রাজধানী কাবুলসহ একাধিক শহরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ২৭৪ জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র মৌলভী জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “যুদ্ধের সূচনা পাকিস্তান করেছে। আফগানিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করেছে। তবে যদি পাকিস্তান সংঘাত অব্যাহত রাখে, তারা প্রতিক্রিয়া পাবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায় এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়।
মুজাহিদ জানান, আফগানিস্তান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করছে। তিনি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা আফগানিস্তানের উপর চাপানো যুক্তিসঙ্গত নয়।
আফগানিস্তানের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে বৈধ ঘোষণা করে মুজাহিদ বলেন, কাবুল সংলাপের পক্ষপাতী। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তবে আফগান প্রতিশোধমূলক হামলাও অব্যাহত থাকবে। তবুও আমরা আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপটের আলোকে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় ডুরান্ড লাইন সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগান সেনাবাহিনী পাকিস্তান সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয় এবং কিছু সেনাকে ধরে নেওয়া হয়। এই হামলা পাকিস্তানের ২১ ফেব্রুয়ারি নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে চালানো বিমান অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে। সেই অভিযানে অন্তত ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছিল।
হামলা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরুর মাধ্যমে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ামূলক বিমান অভিযান চালায়। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত এবং ৪০০-এর বেশি আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ধরনের সংঘাতকে কৌশলগতভাবে অস্থিতিশীল হিসেবে দেখা যেতে পারে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সংলাপ না হলে সীমান্তে আরও নিহত ও আহতের ঘটনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহ এবং পাকিস্তানের প্রতিরোধমূলক অভিযানের মধ্যে এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
তালেবান সরকারের এই বিবৃতি এবং সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনা আফগানিস্তান-দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ জনগণ ও সামরিক সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সংঘাতের প্রভাবের অধীনে রয়েছে।