ধর্ম ডেস্ক
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠান নিরাপদ রাখতে সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টির যে কোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার মুরাদনগরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম কুমিল্লা সফর, যা তার সংসদীয় এলাকা। সফরের সময় তিনি স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করেন।
মন্ত্রী জানান, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে। আমরা সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে কাজ করব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাজারে কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি হবে না এবং সাধারণ মানুষ কোনো অসুবিধায় পড়বে না।
এছাড়া, হজযাত্রীর ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী হজযাত্রীদের সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি জানান, বর্তমান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অতীতের তুলনায় হজযাত্রীদের আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় এই বিষয়গুলিতে সঠিক নজরদারি রাখছেন।
মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, উৎসব ও সরকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
রমজান ও হজকে কেন্দ্র করে সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সরকারের অগ্রাধিকার বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এর মধ্যে বাজারে নজরদারি, খাদ্য ও নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রী কায়কোবাদ আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নক আমরা বরদাশত করব না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, যে কোনো অসঙ্গতির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
কুমিল্লা সফরের সময় স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীরা মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং তিনি তা নোট গ্রহণ করেন। মন্ত্রী আশ্বাস দেন, প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।
সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।