1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার ও ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক তহবিল ঘোষণা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা, কেপ ভার্দেও প্রশংসা করলেন মেসি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আজ বিশেষ স্মরণসভা, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা সাইবার আইন সংস্কারে আইনজীবীদের পরামর্শ নেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

গাজা সংকটসহ বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে ভারত ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০২ বার দেখা হয়েছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা সংকটসহ চলমান বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে নতুন শান্তি উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-এ অংশ নিতে ভারত ও পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য দুই দেশের সরকারপ্রধানদের কাছে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।

ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছে। তবে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তার প্রেক্ষাপটেই আমন্ত্রণটি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে মার্কিন বাজারে ভারতের কিছু রপ্তানি পণ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক আরোপ রয়েছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা চাপে ফেলেছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকার অবস্থান পাকিস্তান আগেই স্পষ্ট করেছে এবং এ ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাকিস্তানের বক্তব্যে গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই শান্তি উদ্যোগে মোট প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। যদিও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার একাধিক দেশ আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস ও পাকিস্তানের পাশাপাশি কানাডা, তুরস্ক, মিসর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার মতো দেশগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি এই উদ্যোগকে একটি বহুপাক্ষিক কাঠামো দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে গাজার অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিনিয়োগ ও অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাত-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও এই বোর্ড নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে বলে জানা গেছে। উদ্যোগটির নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই বোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন ও অর্থায়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও পুনর্গঠনমূলক সহায়তাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কানাডা সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের নেতারাও বোর্ডে যুক্ত হওয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় অবদান রাখার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ইউরোপের একজন সাবেক সরকারপ্রধানকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা উদ্যোগটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ গাজা সংকটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলোর অংশগ্রহণ এ উদ্যোগের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্য ও এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির একটি অংশ নির্ভর করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026