1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশি জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালী পারাপত্তির অনুমতি দিয়েছে ইরান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পঞ্চম মেধাতালিকা প্রকাশ আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করেছে মতলব উত্তরে মাজারের খাদেমকে কুপিয়ে জখম, হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ইরানি নার্সসহ সহিংস সংঘাতের খবর, সামরিক হামলার পরিসংখ্যান প্রকাশ রবার্ট প্যাটিনসনের নতুন সিনেমায় দাম্পত্য জীবনের অস্থিরতা সোনার বাজারে আবারও উত্থান, ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা পৌঁছাল এক-এগারো ও ক্রসফায়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত জোরদার

ভারত পুনরুজ্জীবিত করছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পরিত্যক্ত বিমানমাঠ

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার কয়েকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুনরুজ্জীবিত এয়ারস্ট্রিপগুলোর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ি। এছাড়া কোচবিহার ও আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসী এয়ারস্ট্রিপ ইতিমধ্যেই কার্যক্রম চালু রয়েছে। এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) পশ্চিমবঙ্গের বিমানক্ষেত্রগুলোর ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের হাতে হস্তান্তর করেছে।

এক সরকারি কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানিয়েছেন, “ভারত চায় এসব রানওয়ে সর্বদা অপারেশনাল কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকুক।” প্রতিরক্ষা খাতের সূত্র জানায়, যদিও বিমানমাঠগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য করতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে—যেমন ঘন জঙ্গল, ভাঙাচোরা রানওয়ে এবং জনবসতির মধ্যবর্তী অবস্থান—তবুও জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার বা ছোট বিমান নামানোর জন্য সামান্য মেরামতের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা বৃদ্ধিকেই এই উদ্যোগের প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে ধরা হচ্ছে। শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, উত্তর-পূর্ব ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একমাত্র স্থলসংযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাটে বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ওই বিমানঘাঁটির প্রধান ব্যবহার হবে জাতীয় প্রয়োজনে এবং এটি কোনো বৈদেশিক সেনার জন্য নয়।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, নয়াদিল্লি এই অঞ্চলে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিষানগঞ্জ এবং আসামের ধুবড়িতে ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এই সংযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত সংযোগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রেক্ষাপটকে আরও শক্তিশালী করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ উদ্যোগ শুধুমাত্র যোগাযোগ উন্নয়ন নয়, বরং সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অংশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী বিমানমাঠগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা নয়াদিল্লির কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা ও বিমানপথ প্রশাসনের সূত্র জানায়, পুনরুজ্জীবিত বিমানমাঠগুলোকে শুধুমাত্র ছোট বিমান ও হেলিকপ্টার নামানোর উপযোগী করে তোলা হলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক বা নাগরিক অপারেশনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে সরবরাহ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হওয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, পরিত্যক্ত এই এয়ারস্ট্রিপগুলো মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ত্যাগ ও অব্যবহৃত হয়ে পড়ে। নতুন পরিকল্পনার অধীনে, এসব বিমানমাঠ পুনর্গঠন ও সংরক্ষণ করার মাধ্যমে ভারত সীমান্তবর্তী আঞ্চলিক যোগাযোগ, কৌশলগত উপস্থিতি এবং সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করতে চায়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026