রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা তার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনে লাঙ্গল প্রতীকে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের হলফনামায় তার এবং পরিবারের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য উন্মোচন করেছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গার ব্যক্তিগত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তার ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা তার মূল পেশা থেকে আয়ের পাঁচগুণের বেশি। কৃষি থেকে রাঙ্গার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৫০ টাকা, বাসা-বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ টাকা এবং শেয়ার ও আমানত থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৩ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাঙ্গার ছেলে কৃষি থেকে ১ লাখ ১ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। ছেলে জুড়ির আয় যথাক্রমে কৃষি থেকে ৯১ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। মেয়ের আয় দেখানো হয়েছে কৃষি থেকে ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৯৬ হাজার টাকা। পরিবারের অন্যান্য নির্ভরশীলদের আয় ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গার হাতে নগদ ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, ব্যাংকে রয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ টাকা, এবং সঞ্চয়পত্রে জমা ১ কোটি ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ২৮২ টাকা। পরিবারের মধ্যে ছেলের নগদ ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ছেলের জুড়ির ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, মেয়ের হাতে ২৭ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। ব্যাংকে তাদের জমা যথাক্রমে ছেলের ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ছেলের জুড়ির ২৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং মেয়ের ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
রাঙ্গার নামে দুটি এবং ছেলের নামে চারটি, মেয়ের নামে দুটি বাস-কার রয়েছে। এছাড়া রাঙ্গার হাতে ৩৮ তোলা স্বর্ণ রয়েছে, যার হিসাব অনুযায়ী মূল্য ৭৬ হাজার টাকা। ছেলের হাতে ২০ তোলা, ছেলের জুড়ির ২০ তোলা এবং মেয়ের হাতে ১০ তোলা স্বর্ণ রয়েছে। আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বর্তমান মূল্যও একই ধরা হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাঙ্গার নিজের নামে ৫৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকায় ক্রয় করা কৃষিজমি এবং ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকায় অকৃষিজমি রয়েছে। পরিবারের নির্ভরশীলদের তিনজনের নামে ২ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় কৃষি ও অকৃষিজমি ক্রয় করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য বা বর্তমান মূল্যে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গার নামে গত দেড় বছরে ১২টি মামলা হয়েছে। এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনকে দাখিল করা হলফনামার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে প্রমাণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং ব্যবসায়িক সম্পদের তথ্য প্রকাশ করেন, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।