1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

রাশিয়ার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়া ২০২৪ সালের পর পুনরায় ইউক্রেনে ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রাশিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশের প্রতি সামরিক শক্তির বার্তা প্রদান করা এবং চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার ওরেশনিকের উচ্চ গতি ও ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা নিয়ে জোর দিয়েছেন। প্রথমবার ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছে, সোমবার রাতে নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলের একটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি পুতিনের আবাসস্থলে ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় চালানো হয়েছে, যা কিয়েভ ও ওয়াশিংটন উভয়ই অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত নিষ্ক্রিয় বা ‘ডামি’ যুদ্ধাস্ত্র বহন করছিল। এর উদ্দেশ্য সরাসরি ধ্বংসাত্মক হামলা নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক সংকেত পাঠানো। ২০২৪ সালের প্রথম ব্যবহারের সময়ও একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ গেরহার্ড ম্যাঙ্গট বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার হতাশা এবং ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনায় ক্ষোভ এই হামলার পেছনে প্রভাব ফেলেছে।

রাশিয়ার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোকে এটি রাজনৈতিকভাবে সতর্ক করার উদ্দেশ্য বহন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকেতের মাধ্যমে মস্কো বুঝাতে চেয়েছে যে, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে তাকে আলোচনায় গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। পুতিনের আদেশে ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করার সক্ষমতা রাখলেও সাম্প্রতিক হামলায় কোনো পারমাণবিক উপাদান ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

উচ্চপদস্থ একজন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লভিভে লক্ষ্যবস্তু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রায়ত্ত, এবং এতে ব্যবহার করা ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভবত নিষ্ক্রিয় ছিল। রাশিয়ান নিউক্লিয়ার ফোর্স প্রজেক্টের পরিচালক পাভেল পোদভিগ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের উদ্দেশ্য মূলত সংকেত প্রদান, তাই ধ্বংসাত্মক আঘাত নিশ্চিত করা প্রধান লক্ষ্য ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিষ্ক্রিয় যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার হলেও এটি ইউক্রেন ও তার মিত্রদের ওপর মানসিক ও সামরিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম।

হামলার প্রেক্ষিতে ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমা দেশগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা হামলাটিকে ‘উসকানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, এটি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট উসকানি এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই নিক্ষেপ কৌশলগত ও কূটনৈতিক দুটি দিকেই গুরুত্ব বহন করছে। এটি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোকে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাশিয়ার অবস্থানের গুরুত্ব বোঝানোর একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com