রাজনীতি ডেস্ক
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী শাহজাহান আলীর সম্পদ নগণ্য হলেও তার নামে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে একটিতে তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বাকিগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে; কিছু মামলায় অব্যাহতি পাওয়া গেছে, কিছু থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মামলা এখনও বিচারাধীন।
শাহজাহান আলী পেশায় স্বকর্মজীবী। তার স্ত্রী শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত। হলফনামায় উল্লেখ অনুযায়ী, স্ত্রীর কাছে ১৮ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যা বিয়ের সময় উপহার হিসেবে প্রাপ্ত। প্রার্থীর নিজস্ব সম্পদও তুলনামূলকভাবে সীমিত। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামায় শাহজাহান আলী আয়ের উৎস হিসেবে কৃষি খাত উল্লেখ করেছেন। তিনি বছরে শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় করেন। এছাড়া চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক থেকে মুনাফা হিসেবে তিনি ৮৮৫ টাকা পান। প্রার্থীর অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ টাকা ২১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৬ এবং ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায় জমা ৬১ হাজার ৯৮৫ টাকা রয়েছে। এছাড়া আসবাবপত্রের মূল্য ৩০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীর হাতে রয়েছে ১৭.৩২ শতাংশ কৃষি জমি। জমির অর্জনকালীন মূল্য ছিল এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। বর্তমানে বাজারমূল্য কমে হয়েছে ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, প্রার্থী সম্পদের দিক থেকে বড় ধরনের আর্থিক সক্ষমতা রাখেন না এবং আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষি ও সীমিত বিনিয়োগে নির্ভরশীল।
শাহজাহান আলীর মামলা সংক্রান্ত তথ্যও নির্বাচন কমিশনের হলফনামা ও স্থানীয় আদালতের নথি অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রার্থীর মামলার সংখ্যা ও বিচারিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই প্রতিবেদনে প্রার্থীর সম্পদ ও মামলা সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি তাঁর আয়ের উৎস, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও বর্তমান বাজারমূল্য সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য নির্বাচনী প্রার্থী যাচাইয়ের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।