1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাচনি পথসভা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে তিনি সরকারের সমালোচনা ও রাজনৈতিক বক্তব্যে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী গ্রামের এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব বক্তব্য দেন।

পথসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। ওই সময়কালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা রাজনৈতিক চাপে মাঠপর্যায়ে অনেক নেতা নিষ্ক্রিয় থাকলেও, তিনি ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, এই সক্রিয়তা স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে তাঁকে পরিচিত করেছে এবং তাঁর প্রতি আস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি সরাসরি দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রার্থী দেয়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞা জয়লাভ করলেও, পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ২০০০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরের অধিক সময়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও, তা পূরণ হয়নি। তাঁর দাবি, এই দীর্ঘ সময়ে বিএনপিকে বিকল্প প্রতীক ও কৌশলে প্রার্থী সমর্থন দিতে হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে।

পথসভায় তিনি প্রতীক সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় বলেন, ২০১৮ ও পরবর্তী সময়ে আসনটিতে সমর্থিত প্রার্থীরা ‘খেঁজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বলেন, ধান ও খেঁজুর গাছ দুটি ভিন্ন প্রতীক এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত প্রতীক তালিকায় এদের পরিচয় পৃথক। তিনি বক্তব্যে খাদ্যশস্য হিসেবে ধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও, সাংবিধানিক ও নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী প্রতীক নির্ধারণ ও ব্যবহার নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন বিষয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বর্তমান ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি তাদের রাজনৈতিক শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর জন্য ছেড়ে দেয়। দলটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বিএনপির রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শরিক দলকে আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ২০ দলীয় জোট ও পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার ধারাবাহিকতায় নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশে জোটভিত্তিক রাজনীতির একটি পরিচিত কৌশল।

জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায়, বিএনপি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারাদেশের পর তিনি স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও, সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই, যদি তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা-সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করেন।

এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং অন্যান্য নিবন্ধিত দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দলীয় প্রতীক, জোটগত সমঝোতা, প্রার্থী বহিষ্কার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর জনপ্রিয়তা—এই চারটি উপাদান ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে জোটভিত্তিক আসন বণ্টন একটি প্রতিষ্ঠিত কৌশল, যা ১৯৯১ পরবর্তী সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় বহুবার প্রয়োগ হয়েছে। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোট, মহাজোট এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও জাতীয় জোট কাঠামোতে আসন সমঝোতা ভোটের মাঠ, প্রার্থী নির্বাচন ও সমর্থন কৌশলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের চলমান নির্বাচনি সমীকরণও জোটভিত্তিক রাজনীতির একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পথসভায় রুমিন ফারহানা তাঁর অতীত রাজনৈতিক সক্রিয়তা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির ইতিহাস এবং প্রতীকগত পরিচয় নিয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রার্থীরা নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় সভা, পথসভা ও গণসংযোগ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি সভাগুলোর নিরাপত্তা ও আচরণবিধি প্রতিপালন পর্যবেক্ষণে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনি প্রচারণার ধারায় প্রতীক, প্রার্থী পরিচয়, দলীয় সিদ্ধান্ত ও জোট সমঝোতা নিয়ে বক্তব্য উঠলেও, নির্বাচন কমিশনের আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটারদের প্রতীক ও প্রার্থী পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। ভোট গ্রহণ, ফল ঘোষণা এবং নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তি—সবকিছুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও আইনগত কাঠামোর আওতায় সম্পন্ন হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com