রাজনীতি ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, তার পূর্বঘোষিত নির্বাচনী পথসভায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সভার মঞ্চ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বাধ্য হন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে আয়োজিত এই পথসভায় তিনি বলেন, “অরুয়াইল এলাকায় আমার একটি নির্ধারিত সভা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা মঞ্চটি ভেঙে দিয়েছে। ফলে আমাকে এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে হয়েছে।”
তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করলেও, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় রুমিন ফারহানা স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে অরুয়াইল চিত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও এলাকার সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এমপি থাকাকালীন সময়ে ওই সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন করবেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ বালু ব্যবসার কোনো স্থান থাকবে না। নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।
রুমিন ফারহানা নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকাকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে সাজানোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যুব উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। একই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।