রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ রবিবার (৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সতর্কতা ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
সভায় কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব ও পরিণতি সকলেই ভোগ করতে হবে। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এখন থেকে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হবে। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন রোধ করা।
উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ভোটের আগে এবং পরে কয়েকদিনের জন্য সিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন কমিশনার। এর উদ্দেশ্য হলো রোহিঙ্গাদের কোনো প্রকার মিছিল বা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার রোধ করা এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার অনৈতিক প্রভাব বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করবে এবং যারা সংক্ষুব্ধ বা বিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তাদের ক্ষেত্রে আইনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নানসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভার মাধ্যমে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য কার্যকর প্রস্তুতির নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী, যৌথবাহিনীর অভিযান অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে কৌশলগত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগমূলক কার্যক্রম চালাবে। এছাড়া, রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
সোম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই এই প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় এবং পরিকল্পিত উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কক্সবাজারের নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই পরিকল্পনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োগমূলক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরেজমিনে নজরদারি করবে এবং কোনও ধরনের প্ররোচনা বা আইনবিরোধী কার্যক্রম প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকবে।
এই মতবিনিময় সভা থেকে বোঝা যাচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।