1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

মনোনয়ন বাতিল নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: ড. আযাদের অভিযোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩১ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও দল মনোনীত প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ১০টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আযাদ বলেন, মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণার সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উল্লাসমূলক আচরণ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ড. আযাদের দাবি, প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, উক্ত মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে দায়ের হয়েছিল এবং এটি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় আদালত অবমাননার অভিযোগ থাকলেও এতে ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের মতো কোনো অভিযোগ ছিল না, যা সাধারণত নির্বাচনী অযোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায়ও তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো আর্থিক বা নৈতিক অপরাধের তথ্য নেই।

ড. আযাদ আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময়ও একই আদালত অবমাননার মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছিল। তখন রিটার্নিং অফিসার আইনি পর্যালোচনার পর এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ২০১৩ সালে উক্ত মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি প্রায় দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় সংসদ বা আদালত—কোনো পক্ষ থেকেই মামলাটিকে নৈতিক বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। ফলে, একই মামলার ভিত্তিতে ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত একটি ব্যতিক্রমী ও বিতর্ক উসকে দেওয়ার মতো নজির তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে আরও কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন ড. আযাদ। তিনি বলেন, যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার বিরতির সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে একটি নতুন পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির পরিপন্থী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাই–বাছাই চলাকালে এ ধরনের আলাদা যোগাযোগ ও নথি গ্রহণ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ড লঙ্ঘন করে এবং এটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নীতি ব্যাহত করার শামিল।

প্রশাসনের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনও পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার প্রভাববলয় সক্রিয় রয়েছে বলে তাঁর কাছে তথ্য আছে। তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত সেই প্রভাববলয়েরই অংশ এবং এটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে তাঁকে বাইরে রাখার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, আইনি কাঠামো অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং কোনো পক্ষের প্রতি আনুগত্য বা বিরোধিতার ইঙ্গিত বহনকারী আচরণ থেকে বিরত থাকা। কিন্তু যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের উল্লাস ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে আলাদা যোগাযোগের ঘটনা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ড. আযাদ জানান, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইতোমধ্যে পুনঃশুনানির আবেদন জমা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করবেন যে, আদালত অবমাননার মামলা নির্বাচনী অযোগ্যতার মানদণ্ডে পড়ে না এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তটি আইনগত ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ।

মনোনয়ন বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রশাসনের আচরণ ও সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাই একটি নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন করার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। ফলে, যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা, আইনি কাঠামোর যথাযথ অনুসরণ এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com