1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা, ৩ জানুয়ারি ২০২৬: শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবিতে শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। কর্মসূচিটি ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এ কর্মসূচির আওতায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং হাদি হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা চাইবেন।

ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। অন্যথায় ৭ জানুয়ারির পর থেকে সংগঠনটি চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর ২২ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। নেতারা দাবি করেন, ‘বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের মাত্রা বাড়াতে বাধ্য হবে সংগঠন।’

হাদি হত্যার ঘটনা ও প্রেক্ষাপট
শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত এক সহিংস ঘটনার সময় তিনি নিহত হন বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সংগঠনটি ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ পরিচালনা করে আসছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানায়, ইনকিলাব মঞ্চ দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে আল্টিমেটাম দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান
কর্মসূচি শুরুর আগের দিন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। সমাবেশে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘যেকোনো বৈঠক হতে হবে উন্মুক্ত। কোনো গোপন বৈঠক করা যাবে না।’ একই বক্তব্যে তিনি আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বৈঠক ও আলোচনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

সংগঠনটির সদস্য সচিব আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সব ধরনের আধিপত্যবাদী চাপের বিরুদ্ধে সংগঠনটি কথা বলবে।’ তিনি হাদি হত্যার বিচার দাবির সঙ্গে কূটনৈতিক স্বচ্ছতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং বহুমুখী আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলার প্রসঙ্গকেও আলোচনায় আনেন।

আন্দোলনের কৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব
‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিকে সংগঠনটি ‘গণসংযোগভিত্তিক ন্যায়বিচার আন্দোলন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবির সঙ্গে কূটনৈতিক স্বচ্ছতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় কর্মসূচিটি ক্যাম্পাসের সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে বিচার কার্যক্রমের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়ার মতো ঘোষণাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফৌজদারি মামলায় তদন্ত, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য বিশ্লেষণ এবং অভিযোগপত্র প্রস্তুত একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যেখানে কোনো সংগঠনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে তদন্তের গতি ও অগ্রাধিকার প্রভাবিত হতে পারে। ফলে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর সামাজিক–রাজনৈতিক মনোযোগ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের সময়সীমা বা আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু আন্দোলনের ভাষা ও কৌশল যেন আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে—সেদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর তদন্তের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ সময় পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, নাগরিক সমাজ ও সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তদন্ত–প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কিংবা বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের হুমকি–ধরনের ভাষা আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে এবং সংগঠনটি পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে ৭ জানুয়ারির ঘোষিত সময়সীমার পর। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার–প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং জনমতের গতি–প্রকৃতি—সব মিলিয়ে এ আন্দোলনের প্রভাব আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com