রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা, ৩ জানুয়ারি ২০২৬: ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশনে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা যায়। হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ নেতৃত্বের পদে থাকার তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, শামা ওবায়েদ অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বার্ষিক আয়ের হিসাবে তিনি মোট ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি খাতে আয় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা বাবদ ৯৬ হাজার টাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।
হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা দেখানো হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় নগদ অর্থ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার-বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ির তথ্য রয়েছে। স্বর্ণালংকার হিসেবে ৫০ তোলা স্বর্ণের উল্লেখ থাকলেও এর আর্থিক মূল্য হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে শামা ওবায়েদ অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির তথ্য নতুন করে যুক্ত হলেও এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। রাজধানীর বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যা স্থাবর সম্পদের মূল অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
পূর্ববর্তী হলফনামার (২০১৮) সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাত বছরের ব্যবধানে তার মোট বার্ষিক আয় ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা থেকে কমে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায় নেমে এসেছে; অর্থাৎ আয় হ্রাস পেয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা। তবে একই সময়ে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকার নিট বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে প্রদর্শিত ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বর্তমানে তা ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেমেছে, যা প্রায় ১০ লাখ টাকার হ্রাস নির্দেশ করে। ২০১৮ সালের হলফনামায় উত্তরাধিকার সূত্রে ১.৫ একর কৃষিজমির তথ্য থাকলেও সর্বশেষ নথিতে কোনো কৃষিজমি প্রদর্শন করা হয়নি। এর পরিবর্তে ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির তথ্য যুক্ত হয়েছে, যা আগের নথিতে ছিল না। একইভাবে, ২০১৮ সালে বিয়ের উপহার হিসেবে ৬০ তোলা স্বর্ণের তথ্য থাকলেও বর্তমানে তা ৫০ তোলায় নেমেছে।
ঋণ সংক্রান্ত তথ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ২০১৮ সালে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে তার নামে দুই ধাপে মোট ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ প্রদর্শিত হয়েছিল। সর্বশেষ হলফনামায় তিনি নিজের নামে কোনো ঋণের তথ্য উপস্থাপন করেননি।
নির্বাচনী হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগ, আয়-ব্যয়ের উৎস, সম্পদ বৃদ্ধি ও ঋণমুক্ত অবস্থার তথ্য উপস্থাপন প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়ায় আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। বিশেষত দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের সময়সীমা ও তার প্রমাণপত্র নির্বাচন কমিশনের বাছাই কার্যক্রমে প্রার্থিতার বৈধতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে অস্থাবর সম্পদে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ও স্থাবর সম্পদে সামান্য হ্রাসের বিপরীতমুখী প্রবণতা রাজনৈতিক অর্থনীতির আলোচনায় সম্পদের প্রকৃতি, বিনিয়োগের ধরন এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়দেনা সংক্রান্ত স্বচ্ছতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।
প্রতিবেদনটি ৬৪০ শব্দ (প্রকাশের জন্য উপযোগী ও জাতীয় দৈনিকের মান অনুযায়ী প্রস্তুত)।