1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের নির্দোষ দাবির ভিডিও, ডিবি বলছে—প্রমাণই শেষ কথা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড শহীদ শরিফ ওসমান হাদি মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অগ্রসর হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে।

গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুরে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’–এর মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আরও উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।

ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকায় ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোছাম্মৎ হাশি বেগম এবং স্ত্রী সাহেদা পরভিন সামিয়াও রয়েছেন। এছাড়া ফয়সালের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে চিহ্নিত এক নারী, যাকে তদন্তে ‘প্রেমিকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনিও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের উপস্থিতির বিষয়টি গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেও নিশ্চিত হয়। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সাল মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলিবর্ষণ করেন এবং আলমগীর শেখ মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওবার্তায় ফয়সাল কী দাবি করলেন, তা তদন্তের মূল বিবেচ্য নয়। তদন্ত নির্ভর করে তথ্যপ্রমাণ, সাক্ষ্য এবং যাচাইযোগ্য ঘটনার বিশ্লেষণের ওপর। তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি এআই–সৃষ্ট কি না, তা নিয়ে পুলিশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে এই সন্দেহ তদন্তের গতিপথ পরিবর্তন করেনি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সালের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজন, সীমান্ত এলাকায় তাকে নিয়ে যাওয়া ড্রাইভারসহ একাধিক প্রত্যক্ষ সাক্ষী তার অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিয়েছেন। সীমান্ত এলাকার ড্রাইভার, যিনি ফয়সালকে ওই অঞ্চলে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার সাক্ষ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সব মিলিয়ে ডিবি তাদের নিজস্ব তদন্ত কাঠামোর মধ্যেই এগোচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা নিশ্চিত অবস্থানেই রয়েছেন।

ভিডিওবার্তা নিয়ে ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয়, ভিডিওটি এআই–জেনারেটেড নয়। ভিডিওর ফ্রেম, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ, মুখভঙ্গি এবং অভিব্যক্তি বিশ্লেষণ করে অন্তত চারটি এআই যাচাই টুলের মাধ্যমে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওর কিছু ফ্রেমে ফয়সাল একটি নির্দিষ্ট মুখভঙ্গি করার সময় তার থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়, যা মূলত ব্যবহৃত ফিল্টারের কারণে হয়েছে। ফিল্টারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার থাকলেও তা পুরো ভিডিওকে এআই–সৃষ্ট কনটেন্ট প্রমাণ করে না। তবে ডিবি বলছে, ডিজিটাল টুলের বিশ্লেষণ বা ভিডিওতে থাকা বক্তব্য কোনো কিছুই তদন্তের চূড়ান্ত ভিত্তি নয়; বরং মাঠ পর্যায়ের প্রমাণ ও সাক্ষ্যের সমন্বয়েই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে।

ভিডিওবার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, শুধু ভিডিওবার্তার ওপর নির্ভর করে কোনো সন্দেহভাজনের অবস্থান নিশ্চিত করা যায় না। পাশাপাশি ফয়সাল তার দুবাই অবস্থানের পক্ষে কোনো দৃশ্যমান বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ ভিডিওতে উপস্থাপন করেননি। ফলে এই দাবি যাচাইয়ের বাইরে থেকে গেছে এবং ডিবি তা আমলে নিলেও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি।

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তদন্তে উঠে এসেছে রাজনৈতিক বিরোধ, পরিকল্পিত গতিবিধি এবং সীমান্ত–সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির ইঙ্গিত। যদিও তদন্তের স্বার্থে ডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার মোটিভ বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি, তারা বলছে—এই মামলায় অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে সাক্ষ্য, জবানবন্দি, যানবাহনের ট্র্যাক, এবং প্রত্যক্ষ বর্ণনার সমন্বিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং ডিজিটাল তথ্য যাচাই বনাম মাঠ–তদন্তের পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, যদি স্বেচ্ছায় ও চাপমুক্ত পরিবেশে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংঘটিত অপরাধে শুধু ডিজিটাল কনটেন্ট যাচাই যথেষ্ট নয়; ঘটনাস্থল, গতিবিধি, নেটওয়ার্ক এবং মানব–সাক্ষ্যের সমন্বয়ই তদন্তকে পূর্ণতা দেয়।

ডিবি বলছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা, অভিবাসন রেকর্ড এবং অন্যান্য সীমান্ত–সংক্রান্ত ডেটা যাচাই করা হবে। তবে ফয়সালকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের মতো নতুন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com