1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের মেগা পরিকল্পনা ঢালাও আসামি ও নানা অসংগতি: ঝুলে আছে জুলাই আন্দোলনের অধিকাংশ মামলার তদন্ত মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের নকআউট পর্বের ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে লালমনিরহাটে যৌতুকবিহীন ৭ জুটির গণবিয়ে সম্পন্ন, এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু আগামী আগস্ট মাসজুড়ে অনলাইনে নেওয়া হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মানবিকতা: ভূমিকম্পে পা হারানো ভেনেজুয়েলার শিশুকে জার্সি ও ভিডিও বার্তা প্রেরণ আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষকৃত্য: পাঁচ হাজারেরও বেশি স্কুল উন্মুক্ত করল ইরান বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জুর শোক প্রকাশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৩ বার দেখা হয়েছে

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু। ৩১ ডিসেম্বর সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট মইজ্জু তার বার্তায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার, জনগণ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “এই শোকের সময়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।” প্রেসিডেন্ট মইজ্জুর শোকবার্তায় ব্যক্ত হয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ভূমিকার স্বীকৃতি।

বেগম খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তিনি গত ৪০ দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেত্রী রাষ্ট্র পরিচালনা, বিরোধী রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৬০ সালে তিনি সাবেক সেনাপ্রধান ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তার নেতৃত্বে ১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার পরিচালনা করে। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন উদ্যোগে মনোযোগ দেয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তার সরকার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসারে বেশ কিছু নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

রাষ্ট্র পরিচালনার বাইরে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় বিরোধী দলীয় নেতা, গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী এবং রাজপথ–কেন্দ্রিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪–এর নির্বাচনগুলো ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে তুমুল মেরুকরণ, সংঘাত ও সংলাপ–সংকট তৈরি হয়েছে, সেসব অধ্যায়ে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একাধিকবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থা, ক্ষমতার ভারসাম্য ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সরব থেকেছেন।

২০১৮ সাল থেকে তিনি দুর্নীতি–সংক্রান্ত মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে শর্তসাপেক্ষ মুক্তির আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পান। ২০২৪–এর পর থেকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সর্বশেষ ৪০ দিন তিনি আইসিইউ–ভিত্তিক চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, বহুদিনের লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও শ্বাসপ্রশ্বাস–সংক্রান্ত সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থাকে সংকটাপন্ন করে তোলে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শোক নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি। তার প্রস্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে নারী নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং ক্ষমতা–পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার এক বিরল উদাহরণ হয়ে তিনি থেকে যাবেন আলোচনার কেন্দ্রে।

বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট মইজ্জুর শোকবার্তা একটি কূটনৈতিক সৌজন্য বার্তার চেয়েও বেশি; এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগেরও প্রতিফলন।

রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন ও শেষকৃত্য–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মৃত্যুতে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক মহলে শোকের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026