নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ছোট ভাই, প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তিনি কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ সময় পর দেশে অবস্থানকালে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বনানী কবরস্থানে যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর তিনি সরাসরি বনানীতে পৌঁছান। সেখানে কবর জিয়ারত শেষে তার ধানমন্ডিতে শ্বশুরের বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ যাওয়ার কথা রয়েছে।
কবর জিয়ারতের সময় তারেক রহমান কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। এ সময় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বিএনপি নেতারা জানান, এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মুহূর্ত, যার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি যুক্ত ছিল না।
আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি মারা যান। সে সময় তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কারণে তিনি তখন দেশে ফিরতে পারেননি এবং ভাইয়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সেই প্রেক্ষাপটে শনিবারের কবর জিয়ারত ছিল তারেক রহমানের জন্য প্রথম সুযোগ, যখন তিনি সরাসরি ভাইয়ের কবর জিয়ারত করতে পেরেছেন। বিএনপির নেতারা এটিকে পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি থাকলেও কবর জিয়ারতকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন বা কর্মসূচি ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কবরস্থানের আশপাশে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি সীমিত ছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কার্যক্রম—বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সম্পন্ন করা—তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে শনিবারের কবর জিয়ারতকে তারা মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাইয়ের কবর জিয়ারত করতে পারা তারেক রহমানের জন্য স্বাভাবিকভাবেই আবেগঘন বিষয়। এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার অনুষ্ঠান নয়।”
এর আগে তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে শহীদ নেতা ও দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের কবর জিয়ারত করেছেন। তবে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারতের ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান বনানী এলাকা ত্যাগ করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।