1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কোহলু জেলায় সেনা অভিযানে পাঁচজন নিহত

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোহলু জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে পাঁচজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে নিহতরা রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এলাকায় আরও সশস্ত্র সদস্য থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোহলু জেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। অভিযানের পর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ধরন বা পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এর প্রেক্ষাপটে দেশটির বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে প্রতিদিনই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছে আইএসপিআর।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের কালাত বিভাগেও একই ধরনের একটি অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে আটজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হন বলে জানানো হয়। সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ওই এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান শুরু করা হয়েছিল। অভিযানের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের দেরা ইসমাইল খান জেলার কুলাচি এলাকায় পৃথক এক অভিযানে আরও দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। নিহতদের মধ্যে দিলাওয়ার নামের একজনকে ওই অঞ্চলের একটি সশস্ত্র দলের নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দিলাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিলেন এবং তাঁর গ্রেপ্তারের জন্য ৪০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই অভিযানের সময়ও অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশি মদদ পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছে ইসলামাবাদ। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ বা ভারতের মদদপুষ্ট বিশৃঙ্খল সৃষ্টিকারী হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাজনিত সংকট বিদ্যমান। প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটনা। সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দেয় যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রায়ই অভিযোগ করে থাকে যে, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করে, তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেই অভিযান পরিচালনা করে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়।

সর্বশেষ অভিযানের পর বেলুচিস্তানের কোহলু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com