রুমী চৌধুরী
স্বাধীন গণমাধ্যম কার পক্ষে যাবে? একজন প্রকৃত সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সত্য ঘটনা সর্বসম্মুখে তুলে ধরা। সে ঘটনা যদি কারো পক্ষে যায়, তবে তাকে বাহবা দেওয়া হয়; আর যদি কারো বিপক্ষে যায়, তবে অভিযোগকারীসহ সাংবাদিক ও সংবাদপত্র তাদের শত্রুতে পরিণত হয়। এটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের চিত্র হতে পারে না।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। সে কারণে তারা সরকারি বিজ্ঞাপন ঠিকমতো পেত না। জুলাই আন্দোলনে তারা সাহসী ভূমিকা পালন করে এবং হাসিনা সরকারের পতনে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকারের আমলে নৈরাজ্য নিয়েও তারা কথা বলবে—এটাই স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সে কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ করা শুধু গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধই নয়, মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হেনস্থার শিকার হন। ডেইলি স্টারের সাংবাদিকরা ছাদে গিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে এটি শুধু গণতন্ত্র হত্যাই নয়; মুক্তচিন্তার সঙ্গে জড়িত সংবাদপত্রসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান—যেমন ছায়ানট, উদীচী—এ হামলা করে তাদের হত্যা করাও ছিল হামলাকারীদের উদ্দেশ্য। বিএনপি, জামায়াত, এনসি-সহ সবকটি দল এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য নিন্দা জানিয়েছে।
প্রথম আলোতে এর আগে যখন আক্রমণ করা হয়েছিল, তখন ওসমান হাদী এর নিন্দা করেছিলেন; তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে দশটি প্রথম আলো তৈরি করবেন। তাঁর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে যারা স্বাধীন গণমাধ্যমে আক্রমণ করেছে, তারা জুলাই আন্দোলনের উগ্র মৌলবাদী অংশ—যাদের জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এদের উদ্দেশ্য অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখল করা।
এদের ব্যাপারে জাতিকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। তা না হলে জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য—যেমন একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের স্বপ্ন—ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। দেশ অন্ধকার যুগের দিকে ধাবিত হবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। উন্নত দেশগুলো ভিসা বন্ধ করে দিলে এ দেশের মেধাবী তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে, আর দেশ বিদেশি প্রভুদের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়ে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পতিত হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হবে।