1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০,৯৯০ ডলার নির্ধারণ ফাইনাল টিকিট ১০ হাজার ডলারের বেশি, বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ডায়নামিক প্রাইসিং শুরু শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি প্রাপ্তির কোনো তথ্য নেই: চিফ প্রসিকিউটর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন, নড়াইলের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে চাপ বৃদ্ধি দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ দুই লাখ টনের বেশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল মুখোমুখি দেশের সব দোকান-শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধিতে মালদ্বীপকে আহ্বান এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা সাবমিশনে নতুন নির্দেশনা

রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থিতিশীলতা, দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক

দেশের অর্থনীতিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনিশ্চয়তার পরিবেশ, বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যাংক খাতে চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দোলাচলের মধ্যে প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দেশে এসেছে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ে প্রবাহের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।

এই বিশাল রেমিট্যান্সের ৪২.৮১ শতাংশই এসেছে মাত্র তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রবাসীদের মধ্যে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত বিনিময় হার, সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে।

ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার সম্প্রসারণ এবং ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসের শক্তিশালী অংশীদারি প্রবাসীদের আয়কে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে পৌঁছে দিচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে। ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন জসিম জানান, বাহারাইন, ওমান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তাদের প্রবাসী কর্মীরা নিয়মিত এবং স্বচ্ছভাবে রেমিট্যান্স প্রেরণে সক্রিয়। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা আড়াই কোটির বেশি এবং প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনকে পাঠানো অর্থ প্রধানত এই ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করে।

সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। পূর্বের সময়ের কিছু কর্মী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় বাদ পড়েছেন এবং নতুন কর্মীরা আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা এবং কর্মীদের দায়বদ্ধতা ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংগ্রহে শক্তি যোগ করছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইসলামী ব্যাংক সব দিক থেকে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে।

অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকও রেমিট্যান্স সংগ্রহে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই দুই ব্যাংকের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রবাসী আয় পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বিশেষভাবে সম্প্রতি রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। অক্টোবর মাসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৯ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ২৬ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ২৪ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) প্রবাসী আয় দেশে এসেছে এক হাজার ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৫৫ শতাংশ বা ১২১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং রাজস্ব আদায়ে চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে এই প্রবাহকে টেকসই করতে হলে প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখা, সেবা সহজতর করা এবং রেমিট্যান্সকে উৎপাদনমুখী খাতে কাজে লাগানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026