1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

জামায়াতের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিইসির বৈঠক

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

 

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলমান থাকা অবস্থায় সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এ বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, দলীয় অবস্থান এবং আসন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অন্যদিকে ইসির পক্ষে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন। তফসিল ঘোষণার পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার যে উদ্যোগ কমিশন হাতে নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দলগুলোর প্রস্তুতি, তাদের নিবন্ধনসংক্রান্ত অবস্থান, প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া, কেন্দ্র পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে তাদের করণীয়, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার তালিকা জানতে চায়। জামায়াত প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, পর্যবেক্ষক অনুমোদন এবং প্রচার-প্রচারণার নিয়মাবলি নিয়ে কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

ইসি সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে। নির্বাচনী এলাকা, ভোটকেন্দ্র তালিকা, সরঞ্জাম ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ– এসব বিষয়ে কমিশন কাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান বৈঠকগুলো মূলত তফসিল ঘোষণার আগে মতামত গ্রহণ এবং সম্ভাব্য জটিলতা চিহ্নিত করার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহে বিএনপি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (এনসিপি) কমিশনের সঙ্গে অনুরূপ বৈঠক করে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির ধারাবাহিক বৈঠক নির্বাচনকে সর্বসম্মত ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দল তাদের নিজস্ব দাবিদাওয়া ও উদ্বেগ কমিশনের সামনে তুলে ধরছে এবং কমিশন এসব বিবেচনায় রেখে নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বিশেষ করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা, এবং প্রবাসী বা অনুপস্থিত ভোটারদের নিবন্ধন– এসব বিষয় নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দলও সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন পরিচালনায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রস্তুতি বিষয়ে মত বিনিময় করে। প্রশাসনের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা নির্বাচন কমিশনের কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রস্তুতি মূল্যায়নে সহায়ক বলে জানা গেছে।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যে সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, তাতে এ ধরনের বৈঠকের গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, সহিংসতা এবং ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগের পর এবার কমিশন সুষ্ঠু ও অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের অংশগ্রহণ ও প্রচারকর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইছে।

বৈঠকগুলোতে পাওয়া মতামত, সুপারিশ ও উদ্বেগসমূহ কমিশন পর্যালোচনা করে তফসিল ঘোষণার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বলে জানা গেছে। তফসিল ঘোষণার পর দলগুলোর সঙ্গে আরেকদফা আলোচনা হতে পারে, যেখানে প্রচার-প্রচারণার সময়সূচি, আচরণবিধি এবং ভোটগ্রহণ–সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের এই যোগাযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তফসিল ঘোষণার পরপরই এই চ্যালেঞ্জগুলো আরও প্রতীয়মান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবে এবং মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদার হবে। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ, নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ এবং ফল ঘোষণার সকল প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কমিশন প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com