1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

গণভোটের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়ায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত উদ্যোগের অংশ হিসেবে গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে আইন খসড়া তৈরির জন্য বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে ১৯ নভেম্বর পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে জানানো হয়, সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবসমূহ অনুমোদনের উদ্দেশ্যে গণভোট আয়োজন অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ধারা–৬ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক আইন প্রণয়ন করতে হবে। এই আইন প্রণয়ন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের দায়িত্বে থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সরকারি নথি ও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এখনো গণভোট পরিচালনার জন্য আলাদা কোনো আইন নেই। ফলে ব্যালটের ধরন, গণভোট প্রচার-প্রচারণার বিধি, পর্যবেক্ষণ কাঠামো, ভোট গ্রহণের নিয়মাবলি এবং ফলাফল চূড়ান্তকরণের পদ্ধতি নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রয়োজন। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত থাকায় প্রচলিত সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আইন প্রণয়ন সম্ভব নয়; এজন্য বর্তমানে প্রণীত বিকল্প সাংবিধানিক কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে। সময় সীমিত হওয়ায় আইন প্রণয়ন, বিধিমালা তৈরি, মাঠ প্রশাসনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত—সবদিকেই দ্রুততা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মনে করছে। নতুন আইন কার্যকর হলে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গণভোটের জন্য প্রস্তুতি অপরিহার্য। গণভোটের আইনি কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে। এতে গণভোট আয়োজনের সময়সূচি, লজিস্টিকস, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সরকারি পর্যায়ে গণভোট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটের মতো একটি প্রক্রিয়া কেবল আইন প্রণয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও আস্থার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। আইন প্রণয়ন হওয়া মাত্রই ভোট গ্রহণ, প্রচার-প্রচারণার সীমাবদ্ধতা, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কাঠামো এবং ফলাফল ঘোষণার নিয়ম জনসম্মুখে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।

উপদেষ্টা পরিষদের সাম্প্রতিক বৈঠক শেষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন প্রণয়ন করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হতে পারে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সময়সীমা নিয়ে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা জটিল হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই দিনে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা রয়েছে, কিন্তু গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এখনো জারি হয়নি। অধ্যাদেশ না থাকায় নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, অধ্যাদেশ জারি হলেই কমিশন গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম শুরু করবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, গণভোটের আইনি কাঠামো প্রণয়ন সময়োপযোগী হলেও স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে ফলাফলের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি মনে করেন, আইন বাস্তবায়নযোগ্য ও বোধগম্য হতে হবে এবং এর প্রতিটি ধাপ জনসাধারণের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কারের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে গণভোট একটি বড় রাজনৈতিক ধাপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রাশেদা রওনক বলেন, গণভোট কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক আস্থা, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাই গণভোটের বিধি-বিধান, প্রচার কাঠামো এবং ফলাফল ঘোষণার পদ্ধতি—সবই সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, গণভোট আইন দ্রুত প্রণীত হলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে সক্ষম হবে। এতে গণভোট আয়োজনের কর্মধারা সুসংগঠিত হবে এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নে গতি আসবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com