জাতীয় ডেস্ক
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রয়, দান, হেবা, নামজারি, হস্তান্তর এবং ঋণ অনুমতির ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের প্রথা বাতিল করে ৭ দফা নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর দ্বারা উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবস্থাপনায় সেবা সহজীকরণ এবং দুর্ভোগ ও হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রয়, দান বা হেবার মাধ্যমে নামজারি, হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, হেবা বা বণ্টন), আম-মোক্তার দলিল সম্পাদন, এবং ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আর প্রয়োজন হবে না।
তবে, কিছু নির্দিষ্ট শর্তে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি এখনও প্রয়োজন থাকবে। যেমন, প্লটের বিভাজন, একাধিক প্লটের একত্রীকরণ, প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন বা মাস্টার প্ল্যানের কোনো পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে।
প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল মূল্য অনুযায়ী নির্ধারিত হারে সাব-রেজিস্ট্রি ফি এবং নন-ট্যাক্স রেভিনিউ আদায় করা হবে। দলিল সম্পাদনের সময় ভূমি বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন ফি নেয়া হবে— ফ্ল্যাট বা ভবনসহ ভূমি হস্তান্তরের জন্য দুই শতাংশ এবং শুধু প্লট বা ভূমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তিন শতাংশ।
এছাড়া, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব ফি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আদায় করা হবে।
প্লট বা ফ্ল্যাটের হস্তান্তরের পর, দলিলের একটি কপি এবং নামজারি রেকর্ড ক্রেতা বা দলিল গ্রহীতাকে নব্বই দিনের মধ্যে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই রেকর্ড দাখিল না করলে, প্রতিদিন ৫০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। এছাড়া, মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করতে ৩০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্লটের বিভাজন বা একাধিক প্লটের একত্রীকরণ, প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন বা মাস্টার প্ল্যানের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
এছাড়া, যদি কোনো আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটে মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকে এবং সরকারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকে, কিংবা ১৯৮৮ সালের ২৮ মার্চের পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত না হওয়া প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে, এসব ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের প্রথা বাতিল হবে না।
এই নতুন নির্দেশনাটি প্রয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির পর, শিগগিরই সংশ্লিষ্ট আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের তালিকা প্রকাশ করা হবে, এবং যদি তফশিলের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকে, তাহলে সংশোধনের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থাকবে।