রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর তিনটি স্থানে সোমবার গভীর রাতে তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত পৌনে ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে পৃথক সময়ে এসব আগুনের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান জানান, সোমবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে রায়েরবাগ এলাকায় রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে প্রথম অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এরপর রাত ২টা ৮ মিনিটে যাত্রাবাড়ীতে রাইদা পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুন লাগে। তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে ভোর ৪টার দিকে উত্তরা জনপথ মোড়ে, যেখানে রাইদা পরিবহনের আরও একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনটি বাসই পার্কিং করা অবস্থায় ছিল এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে বাসগুলোর আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটল। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাতটি স্থানে ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। একই রাতে তিনটি গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে।
রাজধানীর তিনটি স্থানে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ পৃথক মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এসব অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “প্রতিটি ঘটনার স্থানে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।”
ফায়ার সার্ভিসও প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রাজধানীতে টানা কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা, আগুন, ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাস টার্মিনাল ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
ঢাকার বিভিন্ন বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা রাতের শিফটে বাস পার্কিং স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর সর্বত্র টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।