জাতীয় ডেস্ক
চলতি বছরের মতো আগামী ২০২৬ সালেও দুই ঈদ ও শারদীয় দুর্গাপূজায় একই পরিমাণ সরকারি ছুটি থাকবে। আগামী বছরে পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিন সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছর সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ঘোষিত ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে নয় দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার) এর সঙ্গে মিলে গেছে।
সরকারি ছুটির এই অনুমোদনের ফলে দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা আগেভাগে করার সুযোগ পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক দিবস এবং নির্বাহী আদেশে ঘোষিত বিশেষ ছুটিগুলোও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি তিন দিন করে নির্ধারিত থাকলেও বিভিন্ন সময় নির্বাহী আদেশে তা বাড়ানো হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনগণের সুবিধা বিবেচনায় ছুটির সময়কাল বাড়ানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদনের সময়ই ছুটির দিন বাড়ানো হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৫ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটি কার্যকর করা হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, ধর্মীয় উৎসবগুলোর ছুটি নির্ধারণে দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের চাহিদা ও অংশগ্রহণ বিবেচনায় নেওয়া হয়। বিশেষ করে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব ঈদ ও দুর্গাপূজার ছুটি সম্প্রসারণের ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মীদের পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘ ছুটি দেশের পর্যটন, পরিবহন ও খুচরা বাজার খাতে সাময়িক অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করে। তবে উৎপাদনমুখী খাতগুলোতে কর্মদিবস কমে যাওয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়ে। তাই সরকারি ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করার সময় অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সামাজিক প্রয়োজন উভয় দিক বিবেচনা করা হয়।
নতুন অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসবগুলোতে আগের মতোই ছুটি কার্যকর থাকবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চলতি বছরের সরকারি ছুটি কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।