জাতীয় ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকার ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে গত ৬ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখার সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এ প্রজ্ঞাপন দুটি জারি করেন।
রোববার (৯ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নতুন এই দুই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে তথ্য ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, সংরক্ষণ ও শেয়ার করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও দায়বদ্ধতা আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য-সম্পদ ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময় ও বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং কেন্দ্রীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি অধ্যাদেশ ডিজিটাল প্রশাসন ও তথ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধ্যাদেশ দুটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অধ্যাদেশগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন হলে সরকারি তথ্যব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা জোরদার হবে। তবে, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
(সূত্র: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)