1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ চূড়ান্ত অনুমোদন

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন যে, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে সরকার। এই আইনে গুমের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উদ্দেশ্যে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এতে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি এটিকে চলমান অপরাধ (continuing offence) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে গোপন আটক কেন্দ্র বা তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ প্রতিষ্ঠা ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গঠিত তদন্ত কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুম-সংক্রান্ত অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে গঠনের পর ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। এছাড়া ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর অধিকার সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

নতুন আইনটিতে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠন এবং তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেইস) প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে গুম-সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, তথ্য সংরক্ষণ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম জানান, সভায় আরও কয়েকটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নগরনীতি নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এছাড়া ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

প্রেস সচিব জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে অঙ্গীকারবদ্ধ হলো। তিনি বলেন, “গুম সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন রয়েছে—‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’। গত বছর ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ উপদেষ্টা পরিষদ কনভেনশনটি অনুমোদন করে এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার হয়। সেই কনভেনশন অনুসরণ করেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।”

এই অধ্যাদেশকে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। আইনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া গোপন আটক কেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

সরকারের মতে, নতুন এই আইনটি দেশের মানবাধিকার অঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর মাধ্যমে গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com