আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও প্রধান কার্যালয় হোয়াইট হাউসের বাইরে সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ভোরে হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ওই তরুণ আকস্মিক গুলিবর্ষণ শুরু করলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত তরুণের নাম নাসির বেস্ট (২১) এবং তিনি মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনায় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করলেও তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে নাসির বেস্ট হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে এসে আকস্মিকভাবে তার ব্যাগ থেকে বন্দুক বের করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। আকস্মিক এই হামলার কারণে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক, পথচারী এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ বাহিনী ‘সিক্রেট সার্ভিস’-এর এজেন্টরা তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালান। এতে নাসির বেস্ট গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। গোলাগুলির এই ঘটনায় আহত অন্য পথচারীকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত নাসির বেস্ট দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় পুলিশের কাছে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার হোয়াইট হাউসের উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত সংরক্ষিত এলাকায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গত বছর অনুরূপ একটি ঘটনার পর আটকের সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে নিজেকে ‘যিশু খ্রিস্টের আধুনিক অবতার’ হিসেবে দাবি করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর মার্কিন আদালত নাসিরের ওপর হোয়াইট হাউস ও এর আশপাশের এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে রবিবার আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তিনি পুনরায় সেখানে অস্ত্রসহ চড়াও হন।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছিলেন। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুসংহত থাকায় তার কোনো ক্ষতি হয়নি। উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আরেকটি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হোয়াইট হাউসের মূল নিরাপত্তা চৌকিতে এই ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রবিবারের এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটন ডিসির গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকায় অতিরিক্ত সশস্ত্র প্রহরা মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।