1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী ঈদুল আজহার আগে সূচকের উত্থানে শেষ হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন, কমেছে পরিমাণ মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ২৯ কার্যদিবসে ঐতিহাসিক রায় রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মনির্ভরশীল শক্তির দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বগুড়াকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সোমবার থেকে বিশেষ ট্রেন চালু ‘দৃশ্যম ৩’-এর রেকর্ড ওপেনিং, প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ৪৩ কোটি রুপি আয় কোরবানির চাহিদা মেটাতে দেশীয় গরুই যথেষ্ট: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অনুমতিপত্র ছাড়া হজে প্রবেশের চেষ্টা ও প্রতারণার অভিযোগে মক্কায় আটক ১৩

পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্কে হোস্টেলে ড্রোন হামলা, হতাহত বহু

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের লোহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২২ মে) শেষ রাতের দিকে চালানো এই হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং ৪২ জন আহত হয়েছেন বলে রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো। তবে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁত ও সফল অভিযান চালিয়েছে।

রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্টারোবিলস্ক প্রফেশনাল কলেজের পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস ভবনটি ড্রোন হামলার আঘাতে প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শিক্ষার্থী ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ দল শনি ও রোববার পর্যন্ত সেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় অনেককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।

এই হামলার ঘটনার পর মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘটনাকে একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিন দাবি করেন, আক্রান্ত স্থাপনাটির আশেপাশে কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা ঘাঁটি ছিল না। ফলে এটি কোনো ভুলবশত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা। তিনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই হামলার জবাব দিতে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরক্ষামূলক ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রেমলিনের কোনো কোনো নীতিনির্ধারক এই ঘটনার পেছনে ইউক্রেনকে মদদ দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও পাল্টা চাপ সৃষ্টির দাবি তুলেছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিয়েভের দাবি, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধকালীন নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে তারা কেবল শত্রুভাবাপন্ন দেশের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে তারা একটি সফল বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু কোনো বেসামরিক হোস্টেল ছিল না। মূলত ওই এলাকায় অবস্থানরত রুশ বাহিনীর একটি বিশেষ ড্রোন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।

এই রক্তক্ষয়ী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার অনুরোধে গত শুক্রবারই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি দল স্টারোবিলস্কের বিধ্বস্ত কলেজের ছবি ও তথ্য উপস্থাপন করে একে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা দাবি করে। এর বিপরীতে ডেনমার্কসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিরা তীব্র দ্বিমত পোষণ করেন। পশ্চিমা কূটনীতিকরা যুক্তি দেন যে, ইউক্রেনের সার্বভৌম ভূখণ্ডে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযান এবং প্রতিদিন ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর চালানো বোমাবর্ষণের তুলনায় এই জরুরি বৈঠক ডাকার বিষয়টি একপেশে। তাদের মতে, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর রাশিয়ার নিয়মিত হামলার বিচার করতে গেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সপ্তাহে প্রতিদিন একাধিকবার জরুরি বৈঠক করা উচিত।

জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুদ্ধকবলিত এবং রুশ অধিকৃত ওই অঞ্চলে জাতিসংঘের স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের সরাসরি যাতায়াত বা প্রবেশাধিকার না থাকায়, তারা নিরপেক্ষভাবে এই হতাহতের সংখ্যা কিংবা হামলার প্রকৃত ধরণ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি ড্রোন ছোঁড়ার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক মহল বারবার আহ্বান জানালেও, এই ধরনের বড় মাত্রার বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026