কেমন যাবে ২০১৯

SHARE

ড. কে. সি. পাল

(স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ভারত)

কাব্য, ব্যাকরণ, স্মৃতি, পৌরহিত্য, আয়ুর্বেদ (পঞ্চতীর্থ) ঢাকা জ্যোতিষশাস্ত্রী, জ্যোতিষ ভাস্কর, জ্যোতিষ ভূষণ জ্যোতির্ষার্নব ও অসংখ্য অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ভারত।

kcpal17@gmail.com

অনেকেই আছেন যারা ভাগ্যচক্রে বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে করেন না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এরপরও বিশ্বজুড়ে রাশিচর্চা বা ভাগ্যচক্র নিয়ে আলোচনা-গবেষণা হয়। জেনে রাখা ভালো, রাশি কখনোই ভাগ্যনিয়ন্তা নয়। মানুষের কর্মই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে। জ্যোতিষশাস্ত্র কেবল কিছু সূত্র ধরে সম্ভাবনার পথ বাতলে দেয়।

বাংলাদেশ

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা মাতৃভূমি বাংলাদেশের অবস্থা ২০১৯ সালের সার্বিক গ্রহাবস্থান বিচারে জ্যোতিষিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট শুভ সম্ভাবনাময় ও উন্নতির অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোবল, জনবল ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ববল বহুগুণ চাঙ্গা হয়ে উঠবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর দেওয়া নির্বাচন-উত্তর প্রতিশ্রুতি পূরণ; সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ দেশের দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে, তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ শুধু নয়, বিশ্বের বুকে মডেল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবেন এবং সক্ষম হবেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আস্থা ফিরে পাওয়ায় দেশের শিল্প-কারখানা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা ও আইনের শাসনের প্রতি সরকারের শ্যান দৃষ্টি পড়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা মানের বহুল উন্নতি ও আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে চোখে পড়ার মতো। দেশের শেয়ারবাজারের মন্দাভাব দূর হবে তথা রপ্তানি বাণিজ্য মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় রিজার্ভ মানি ফুলে-ফেঁপে উঠবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়, ভূকম্পন প্রভৃতিতে ফসলহানি ও লোকক্ষয়ের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যাবে; এমনকি জনবহুল প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ বছর বেশ কয়েকজন বরেণ্য নেতৃবর্গ, লেখক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও প্রথম শ্রেণির ব্যবসায়ীর জীবনাবসান ঘটতে পারে শত্রুপক্ষের আচমকা আক্রমণজনিত কারণে। গ্যাস, কয়লা, তেল, যানবাহন, ইলেকট্রনিক পণ্য, শিশুখাদ্য, মেশিনারিজ, সোনা, লৌহ, স্টিল, ক্রোকারিজ সামগ্রী, ওষুধপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জামাদিসহ প্রায় সিংহভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীন বৃদ্ধি পাবে। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাঙ্গা হয়ে উঠবে, সেই সঙ্গে সেনা, নৌ, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর স্বদেশপ্রেম আপামর জনসাধারণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এ বছর শ্রম ও জনশক্তি, চামড়া, পাট, চিংড়ি ও পোশাকাদি রপ্তানি-বাণিজ্য অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশ এ বছর চীন-ভিয়েতনামের পথ অনুসরণ করে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, যানবাহন, খেলনা, মোবাইল ও পোশাকাদি উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য লাভ শুধু নয়, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি শুরু করবে। যার ফলে দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হওয়ায় বেকারত্বের হার অনেকাংশে কমে আসবে। চীন, জাপান, ভারত, আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে। সেই সঙ্গে বিগত কয়েক বছর ধরে মুখ ফিরিয়ে থাকা বিশ্বব্যাংকের উদার মানসিকতা বাংলাদেশকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। যার ফলে গ্যাস, কয়লা উত্তোলন, সামুদ্রিক বন্দর প্রতিস্থাপন, রেললাইনের প্রসার; যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝিমিয়ে পড়া মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুসহ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গে আরও দুই-একটি সেতু নির্মাণের প্রচেষ্টা, বিমানবন্দর নির্মাণ, সম্প্রসারণ, নতুন বিমান, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, জাহাজ ক্রয়ের প্রচেষ্টার প্রায় সিংহভাগই পূরণের দিকে ধাবিত হবে। কৃষিজাতদ্রব্য যেমন- ধান, গম, পিয়াজ, রসুন, পাট, সরিষা, জিরা প্রভৃতির ফলন হবে চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে ছাগল, গরু, মহিষ, ভেড়া প্রভৃতি পালন ও মৎস্য চাষে সরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় দেশে মৎস্য-মাংসের ঘাটতি অনেকাংশে কমে আসবে। এতদসত্ত্বেও দেশের একশ্রেণির মানুষের মনে সততার অভাব দেখা দেবে; যার ফলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধে ভেজাল, নকল ওষুধে বাজার সয়লাব, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে বিষাক্ত কেমিক্যালের মিশ্রণ আপামর জনসাধারণের জীবনকে স্তম্ভিত ও হতভম্ব করে তুললেও সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে খুব একটা মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা নেই। দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন আমদানি ও সেবন, আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, নকল দ্রব্য ও জালনোটের রমরমা বাণিজ্য বাড়বে বৈ কমবে না। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে সরকারবিরোধী

নীলনকশা চললেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর বেশ কয়েকবার আচমকা আক্রমণ হলেও সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে সংখ্যালঘুদের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে। তবে দেশে আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে সরকারের মাথাব্যথার কারণ শুধু নয়, তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। হরতাল, অবরোধ, মিছিল, মিটিং রাজনৈতিকভাবে সরকার পতনের আন্দোলনের নাম শোনা যাবে ঠিকই কিন্তু বিরোধী দলগুলোর সফলতা অর্জন করা কঠিন হবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি

ইংরেজি নববর্ষ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার; যার সংখ্যা হলো-৯ আর ২০১৯-এর সংখ্যা হলো-৩। এই (৯+৩)=১২ (১+২)=৩ এই ৩ সংখ্যা হলো দেবগুরু বৃহস্পতির প্রতীক; যা প্রসার বিস্তার ও বৃদ্ধির কারণ। এ বছর বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যকার ভৌগোলিক অবস্থার প্রসার, ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার এবং বাস্তবায়নের জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের আগুন যেমন জ্বলবে তেমনি মঙ্গলের মতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সমানতালে বাড়তে থাকবে। এ বছর একাধিক দেশে বিভাজনের আন্দোলন জোরদার হওয়ায় এবং আন্দোলনকারীরা জয়ী হওয়ায় বিশ্বের বুকে দুই-একটি নতুন দেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে বিশ্বমোড়ল রাষ্ট্রগুলো এক কাতারে মিলিত হলেও তেমন একটা সুফল বয়ে আনতে অসমর্থ হবে। বিপরীতে মাঝখানে পড়ে লোক ও সম্পদ ক্ষয়ের মাত্রা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। শুধু পরিবর্তন ও শান্তিতে বসবাসের আশায় দেশ-বিদেশসহ দিগি¦দিক ছুটবে লাখ লাখ মানুষ। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ধর্ম-অধর্মের যুদ্ধ, কয়েকটি বিশ্বমোড়ল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নেতাদের অদূরদর্শিতা, হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও অর্থের শ্রাদ্ধ হবে কিন্তু প্রকৃত যুদ্ধ বাধার কোনোরূপ সম্ভাবনা নেই। অবশ্য ধর্মান্ধ ও নাস্তিক্যবাদের দৌরাত্ম্য, নারী-শিশু নির্যাতন, গুম, হত্যা, লুণ্ঠন শিরñেদ, লাশ নিয়ে উল্লাস, মুক্তিপণের আশায় আটক ও হত্যা, চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও নেশাজাতীয়দ্রব্যের অপব্যবহার, মাদকদ্রব্যের রমরমা বাণিজ্য, খাদ্যদ্রব্য ও প্রাণদায়ী ওষুধে ভেজাল প্রভৃতি দেখে জ্ঞানী, গুণী, মানি, ধর্মাশ্রয়ী ও সুশীল সমাজের শান্তিপ্রিয় ব্যক্তিরা স্তম্ভিত ও হতভম্ব হয়ে পড়বে। এ বছর কয়েকটি দেশে সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ, সংঘর্ষ, যুদ্ধ-বিগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক, খাদ্য সাহায্য বন্ধ ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ, একঘরে করে রাখার প্রবণতা যেমন বাড়বে তেমনি একাধিক দেশের ওপর তা কার্যকরও হবে। তেল, গ্যাস, হীরা, সোনা, প্রত্নতত্ত্বসামগ্রী চুরি, পুরনো নিদর্শন স্থাপত্য ধ্বংস, বিভিন্ন দেশ থেকে অন্য দেশে আশ্রয়প্রাপ্তদের ওপর অতর্কিত হামলা, কারাদণ্ড, বহিষ্কারাদেশ, একদেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা হবে প্রায় নিত্যদিনের শিরোনাম। বিশ্বের কয়েকটি দেশে মারণঘাতকসহ নিত্যনতুন দুরারোগ্য ব্যাধিপীড়ার প্রকোপ যেমন বাড়বে তেমনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা এমনকি খোদ পার্লামেন্টেও গোলাবারুদের প্রয়োগ ঘটতে পারে। এ ছাড়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, জল, স্থল, আকাশযানে নাশকতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতিতে লোকক্ষয় মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাবে। এ বছর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া কানাডা, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম, জাপান, ইরান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত চাঙা হয়ে উঠবে তথা সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যেও ভৌগোলিক অবস্থান বা আয়তন বাড়তে পারে। অবশ্য আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, লেবানন, মিসর, রোমানিয়া, ওমান, মেক্সিকো, কলম্বো প্রভৃতি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দাভাব ক্রমশ বাড়তে পারে। ফলে এসব দেশের বেকার যুবক-যুবতীরা কর্মের আশায় হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াবে এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা চালাবে। ইতালি, জার্মানি, ব্রাজিল, নরওয়ে, ডেনমার্ক, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, স্পেন, রোম, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি রাষ্ট্রের বহুল উন্নতি সাধিত হবে। এ বছর দাতাগোষ্ঠীসহ বিশ্বব্যাংকের উদার মানসিকতা পাল্টে ফেলায় বিশ্বের কয়েকটি দেশে দ্রব্যমূল্যের দু®প্রাপ্যতা, খাদ্যাভাব, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অভাব দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার প্রায় সিংহভাগ রাষ্ট্র যে তিমিরে আছে সেই তিমিরেই থেকে যাবে। আমেরিকা, জাপান, রাশিয়া, ইসরায়েল, ফ্রান্স, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে অটল থেকে একাধিক দেশকে উসকানি দিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ বাধিয়ে অস্ত্রশস্ত্র, বারুদ, ট্যাংক, জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও প্রাণদায়ী ওষুধ বিক্রির হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সক্ষম হবে। মাঝখানে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, থাইল্যান্ড তাদের রপ্তানি-বাণিজ্য বহুগুণ বৃদ্ধি ও রিজার্ভ মানি বৃদ্ধি করে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। চীন, জাপান, তুর্কি, কাতার, ডেনমার্ক, সৌদি আরব, ভেনিজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া, পোল্যান্ড, কিউবা, জিম্বাবুয়ে, ঘানা, জর্জিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের জনপ্রবৃদ্ধি ক্রমশ কমবে বৈ বাড়বে না। এতদসত্ত্বেও শুভগ্রহযোগ শত দুর্যোগ কাটিয়ে গোটা বিশ্বের প্রায় সিংহভাগ রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে।