সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সকলের দৃষ্টি এখন নতুন মন্ত্রিসভার দিকে

SHARE

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সকলের দৃষ্টি এখন নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। কেমন হবে মন্ত্রিসভার আকার, কারা থাকছেন, কারা বাদ যাচ্ছেন বা নতুন কারা আসছেন— সচিবালয় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্যের অঙ্গনে এটিই এখন মুখ্য আলোচনার বিষয়। আকার যাই হোক নির্বাচনী জোটের শরিকদের প্রতিনিধি রেখেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বলা বাহুল্য, কারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন তা একান্তই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার।

সবকিছু ঠিক থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বিএনপির এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাদের এমপি পদে বিজয়ীরা শপথ নেবেন না। এছাড়া আগামী ৫ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে শপথের দিনক্ষণ দু-একদিন হেরফের হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ১০ জানুয়ারির আগেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), ১৪ দলীয় জোট, যুক্তফ্রন্ট মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। পক্ষান্তরে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট নামে নির্বাচনে অংশ নেয়। মহাজোট ২৮৮ আসনে এবং ঐক্যফ্রন্ট ৭ আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৯, জাপা ২২, আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপিসহ ১৪ দলের অন্য শরীকরা ৯টি আসনে বিজয়ী হয়। জাপা নিজস্ব প্রতীক লাঙ্গল এবং জেপি নিজস্ব প্রতীক বাই সাইকেল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। অন্যরা নৌকা প্রতীক নিয়েই ভোট করে।

এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে সেই প্রশ্নে যে আভাস মিলছে তাতে গতবারের তুলনায় নতুন মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। ২২টি আসনে নির্বাচিত জাপার কাউকে মন্ত্রিসভায় নেয়া হবে কি হবে না সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয় জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভায় মহাজোটের অন্য শরিকদের প্রতিনিধি থাকছে। নির্বাচনে অংশ না নেয়া ১৪ দলীয় জোটের শরীক কোনো কোনো দলের প্রতিনিধিকেও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে। মন্ত্রিসভায় গতবারের তুলনায় নারীর সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো মেধাবী ও দক্ষদের বিষয়টি এবার মন্ত্রিসভায় গুরুত্ব পেতে পারে। স্বচ্ছভাবমূর্তির ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

নিয়মানুযায়ী নির্বাচিত সদস্যদের নাম নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে তাদের শপথ অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ গতরাতে জানান, আজ বুধবার গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা আছে। এ লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। তফসিল ঘোষণার পর একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় এবং নির্বাচনের দিন আরেকটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করায় সরকারিভাবে ২৯৮ জন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এই ২৯৮ জনের নামের তালিকা এখন গেজেট আকারে প্রকাশ হবে।

দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গেজেট আকারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। ৯ জানুয়ারি এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। একইদিনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগদানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সময় সরকার গঠনের সম্মতি জ্ঞাপন ও মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হওয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নিয়োগের অবসান ঘটানো হয়। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে নিয়োগ প্রদান করেন। একই তারিখে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়।