দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৭৮ জন

SHARE

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে বাতিল হওয়া আরও ৭৮ জন নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরে এলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ১৬০টি আপিলের শুনানিতে ৮০ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। শুক্রবারও ১৫০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে বিএনপি মনোনীত রয়েছেন ২১ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন। তবে ছয়জন বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও তা খারিজ হয়ে গেছে। এরমধ্যে সাতটি আপিলের শুনানি হলেও রায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনে আপিল করে শুক্রবার তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ঋণখেলাপির অভিযোগে আওয়ামী লীগ মনোনীত কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাকির হোসেনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এ ছাড়াও হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের প্রার্থী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, বরিশাল-২ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী এ কে ফাইজুল হকের ছেলে এ কে ফাইয়াজুল হক ও মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবায়দুর রহমান চৌধুরী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

পাশাপাশি আলোচিতদের মধ্যে আপিলেও প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির সম্প্রতি পদ হারানো মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন ড্যাব নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়াও বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান ও আফরোজা আব্বাসের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার রায় ঘোষণার কথা।

এদিকে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭৮৬ জনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করলেও ইসিতে আপিল জমা পড়ে ৫৪৩টি। প্রথম দুই দিনে ৩১০টি আপিলের শুনানি হলেও শনিবার বাকিগুলোর শুনানি হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ অন্য চার কমিশনার শুনানি গ্রহণ করেন। শুক্রবারের শুনানিতে বিএনপির যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারা হলেন- মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), মুসলিম উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), আবু আহমেদ হাসনাত (চট্টগ্রাম-৭), আবদুল খালেক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), মতিয়ার রহমান তালুকদার (বরগুনা-১), গোলাম নবী আলমগীর (ভোলা-১), শহিদুল আলম তালুকদার (পটুয়াখালী-২), এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন (ঢাকা-১৬), খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (কিশোরগঞ্জ-১), মঈনুল ইসলাম খান (মানিকগঞ্জ-২), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১), নাদিয়া আক্তার (মাদারীপুর-১), ফাহিমা হুসাইন জুবলী (ঢাকা-১), সাইফুল ইসলাম সুমন (কিশোরগঞ্জ-৩), মামুন মাহমুদ (নারায়ণগঞ্জ-৪), এবাদুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-১), নুর মোহাম্মদ খান (টাঙ্গাইল-৬), সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন (শরীয়তপুর-১), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (জামালপুর-১), আবু তালেক তালুকদার (নেত্রকোনা-৫) ও দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (সুনামগঞ্জ-৪)।

জাতীয় পার্টির মনোনীতদের মধ্যে শুক্রবার যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারা হলেন- খোরশেদ আলম (চাঁদপুর-৫), মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) (বরিশাল-২), ছালাউদ্দিন খোকা (নারায়ণগঞ্জ-৪), মাহমুদা রহমান মুন্নি (ঢাকা-৮), আমানত হোসেন (ঢাকা-১৬), সেলিম উদ্দিন (সিলেট-৫), এরশাদ হোসেন (কিশোরগঞ্জ- ২) ও এস এম আবদুল মান্নান (মানিকগঞ্জ- ২)।

স্বতন্ত্রদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৮), গিয়াস উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মো. ছাইফুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), এ কে ফাইয়াজুল হক (বরিশাল-২), সৈয়দ রুবিনা আক্তার (বরিশাল-২), শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২), গিয়াস উদ্দিন (নারায়ণগঞ্জ-৪), আবুল কাশেম ও এম আশরাফুল ইসলাম (টাঙ্গাইল-৬), আল আমীন মোল্লা (মাদারীপুর-২), মো. আবদুল হান্নান (হবিগঞ্জ-১) ও মাহমুদ হাসান সুমন (ময়মনসিংহ-৮)।

অন্যান্য দলের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন জাকের পার্টির পটুয়াখালী-১ আসনে মো. আবদুর রশিদ, বরিশাল-১ আসনে মো. বাদশা মিয়া, শরীয়তপুর-২-এ মো. বাদল কাজী ও ময়মনসিংহ-৫-এ মো. জহিরুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা-৩-এ মো. সুলমান আহম্মদ খান, কিশোরগঞ্জ-২-এ মো. সালাহউদ্দিন (রুবেল), কিশোরগঞ্জ-৬-এ মোহাম্মদ মুসা খান, টাঙ্গাইল-৮-এ মো. আ. লতিফ মিয়া, ময়মনসিংহ-১-এ মো. হাবিবুল্লাহ ও ময়মনসিংহ-১১-এ মো. আমান উল্লাহ সরকার।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের নরসিংদী-২ জায়েদুল কবীর, গাজীপুর-৩ মো. জহিরুল হক মণ্ডল বাচ্চু, কিশোরগঞ্জ-৫ সেলিনা সুলতানা ও রংপুর-২ কুমারেশ চন্দ্র রায়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) শরীয়তপুর-৩ সুশান্ত ভাওয়াল, কিশোরগঞ্জ-২ নুরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৩ ডা. এনামুল হক (ইদ্রিস), ঢাকা-২ সুকান্ত শফি চৌধুরী ও ফরিদপুর-৪ আতাউর রহমান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের টাঙ্গাইল-৭ সৈয়দ মজিবর রহমান, সুনামগঞ্জ-৪ মোহাম্মদ আজিজুল হক ও ঢাকা-১৮ সাইফ উদ্দিন আহমেদ।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির টাঙ্গাইল-৬ মামুনুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ এস এম চান মিয়া ও সুনামগঞ্জ-৪ মোহাম্মদ দেলোয়ার।

ইসলামী ঐক্যজোটের কুমিল্লা-১ আসনে মো. আলতাফ হোসেন, সিলেট-৫ এম এ মতিন চৌধুরী ও হবিগঞ্জ-৩ মাওলানা আতাউর রহমান।

এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ঢাকা-৮ এস এম সরওয়ার, বিএনএফ-এর টাঙ্গাইল-৩ মো. আতাউর রহমান খান ও টাঙ্গাইল-৬ সুলতান মাহমুদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ঢাকা-১৮ শহীদ উদ্দিন মাহমুদ ও কিশোরগঞ্জ-১ মু. আব্দুর রহমান এবং এলডিপির নেত্রকোনা-১ আসনের এম এ করিম আব্বাসী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

আপিলে টিকলেন না যারা- কুমিল্লা-১০ শাহজাহান মজুমদার, চট্টগ্রাম-৬ সামির কাদের চৌধুরী, ফেনী-৩ আবদুল লতিফ জনি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ মো. শাহজাহান, কুমিল্লা-২ আব্দুল মজিদ, বরিশাল-৬ ওসমান হোসেইন, পিরোজপুর-৩ ডা. সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস, ঝালকাঠি-১ মো. মনিরুজ্জামান, পটুয়াখালী-১ এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পটুয়াখালী-২ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান, ভোলা-৪ এম এ মান্নান হাওলাদার, ঝালকাঠি-১ মোহাম্মদ শাহজাহান শামীম, পিরোজপুর-১ মনিমোহন বিশ্বাস, ঝালকাঠি-১ ইয়াসমিন আক্তার পপি, ভোলা-২ হুমায়ুন কবির, নরসিংদী-২ আলতামাশ কবির, কিশোরগঞ্জ-৪ সুরঞ্জন ঘোষ, কিশোরগঞ্জ-৩ আম্মান খান, শরীয়তপুর-১ আলমগীর হোসেন, মানিকগঞ্জ-১ মোহাম্মদ আতোয়ার হোসেন, ঢাকা-৮ আরিফুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-২ আনিসুজ্জামান, ঢাকা-১৭ আনিসুজ্জামান খোকন, ঢাকা-৮ মেজর (অব.) মামুনুর রশিদ, গোপালগঞ্জ-১ শামসুল আলম খান চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৩ মনিরুজ্জামান নয়ন, নারায়ণগঞ্জ-১ রেহান আফজাল, গোপালগঞ্জ-৩ এ জেড অপু শেখ, মুন্সীগঞ্জ-২ নোমান মিয়া, কিশোরগঞ্জ-২ লুৎফর রহমান, ঢাকা-২০ জামাল উদ্দীন আহম্মেদ, গাজীপুর-১ হুমায়ুন কবীর, নারায়ণগঞ্জ-৩ সাহাব উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৩ অনন্য হোসাইন মৌসুমি, মৌলভীবাজার-৩ আব্দুল মোসাব্বির, হবিগঞ্জ-৩ আ. কাদির, হবিগঞ্জ-৩ মাওলানা আতাউর রহমান, সিলেট-২ অধ্যক্ষ এনামুল হক সরদার, সিলেট-৬ জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া, সুনামগঞ্জ-১ কামরুজ্জামান কামরুল, সিলেট-২ মহিবুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ রঞ্জিত কুমার দে, হবিগঞ্জ-১ মোহাম্মদ বদরুর রেজা, হবিগঞ্জ-৪ মোহাম্মদ আব্দুল মামুন, সিলেট-৩ আব্দুল ওদুদ, টাঙ্গাইল-৮ কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, নরসিংদী-২ আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ মোশারফ হোসেন, গাজীপুর-৪ মোশারফ হোসেন, ঢাকা-১৫ ছলিম উদ্‌দিন, রংপুর-৩ হাবিবুল হক সরকার, ঠাকুরগাঁও-৩ গোপাল চন্দ্র রায়, গাইবান্ধা-৩ তৌফিকুল ফামিন মণ্ডল, কুড়িগ্রাম-৪ ইমরান এইচ সরকার, নীলফামারী-৩ আনছার আলী, ময়মনসিংহ-৪ আবু জাফর জাহিদ হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ সোহেল মিয়া, শেরপুর-৩ আবু বকর সিদ্দিক ও কুড়িগ্রাম-৪ এস এম জাহাঙ্গীর।

স্থগিত রয়েছে যাদের আপিল : আটজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গতকাল আপিল শুনানি শেষে স্থগিত রাখা হয়। তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ মেহেদী হাসান, সুনামগঞ্জ-৩ সৈয়দ শাহ মুবাশ্বির আলী, ঢাকা-২ আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৯ আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-২০ সুলতানা আহম্মেদ, রংপুর-১ আলহাজ সি এম সাদিক, গাইবান্ধা-১ আফরুজা বারী।

বৈধ প্রার্থীর বিরদ্ধে যাদের আপিল টেকেনি : ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান ওমরের মনোনয়ন বাতিলের জন্য আওয়ামী লীগের বজলুল হক হারুনের আপিল খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও মাহাবুবুল আলম। শুনানি শেষে ইসি তাদের আপিল নামঞ্জুর করেন। ভোলা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম। শুনানি শেষে কমিশন তা নামঞ্জুর করলে জ্যাকবের ভোটের বাধা কেটে যায়।