দল ও জোটের প্রার্থী মনোনয়ন: শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি

SHARE

রেজাউল করিম প্লাবন, হাবিবুর রহমান খান ও তারিকুল ইসলাম

আজ-কালের মধ্যেই মহাজোটের তালিকা

আসন ও প্রার্থী ধরে চলছে পর্যালোচনা

মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা-পর্যালোচনা।

শনিবার জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদসহ শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব দলের নেতাদের কাছ থেকে প্রার্থী তালিকা নেয়া হয়। শরিকদের কাছ থেকে পাওয়া নামগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে রাতে গণভবনে দলের শীর্ষ নেতারা এই তালিকা নিয়ে বৈঠক করেন।

এ সময় আসন এবং প্রার্থীর নাম ধরে ধরে পর্যালোচনা করা হয়। তালিকা চূড়ান্ত হলে আজ বা কাল এই তালিকা প্রকাশ হতে পারে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

আসন বণ্টন নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ইন্টার্নাল আলোচনা করছি, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। যুক্তফ্রন্ট এবং কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

এখন আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে। আগামীকালের মধ্যে (আজ) সবকিছু চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

জাতীয় পার্টিকে কয়টি আসন দেওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। অন্য শরিকদের কতটি আসন দেওয়া হবে- এর জবাবে কাদের বলেন, ৬৫-৭০টির বেশি আসন দেয়া হচ্ছে না।

শেষ মুহূর্তে শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে সভা বসে।

এরপর বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সন্ধ্যার পর তরিকত ফেডারেশনের সঙ্গে গণভবনে সভা হয়। এসব মিটিংয়ে জোট নেতাদের আসনভিত্তিক চাহিদা, প্রার্থীর সক্ষমতাসহ অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়।

নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের বিষয়ও উঠে আসে। জয় নিশ্চিত করতে পারবে এমন প্রার্থীর নাম দেয়ার কথা বলা হয়। দুপুর বারটার দিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আসেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

তারা বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে দলটির তালিকা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। একপর্যায়ে জাতীয় পার্টির বর্তমান আসনগুলো ছাড়া তাদের আরও কোন কোন আসন দেয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়।

তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা ও মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু, অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, সুনীল শুভরায়, সোলায়মান আলম শেঠ। জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কাছে অন্তত ৭০টি আসন দাবি করে জাতীয় পার্র্টি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মহাজোটের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আসন বণ্টন চূড়ান্ত। দু’একদিনের মধ্যেই ঘোষণা দেয়া হবে। তিনি বলেন ‘যেসব আসন আমরা চাই, সেগুলো নিয়ে শনিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নির্ভুল পথে চলতে হবে, এখানে আবেগের সুযোগ নেই।’ কতটি আসনে রফা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পেয়েছি।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, আসনের দাবির চেয়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করবে এ বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আসেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তারা দু’জনই আলাদাভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে উভয় দল তাদের প্রার্থী তালিকা কাদেরের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এদিকে শেষ পর্যায়ের আসন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মহাজোটের অন্য শরিক দলগুলো। তবে তোড়জোড় বাড়লেও এবার ১৪ দলের আসন কমছে বৈ বাড়ছে না বলে জানা গেছে। বৈঠকগুলোতেও তাদের এমন আভাসই দেয়া হয়েছে।

শনিবার বৈঠক শেষে রাশেদ খান মেনন যুগান্তরকে বলেন, আলোচনা হয়েছে। আমাদের চাহিদা ওবায়দুল কাদেরের কাছে জানিয়েছি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা সে অপেক্ষায় আছি।

সূত্র জানায়, জোটের নতুন আসা যুক্তফ্রন্টকে ৪ থেকে ৫টি আসন দিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য জোটের অন্য দলের ওপর কিছুটা চাপ পড়ছে। এছাড়া যেসব নিবন্ধিত ইসলামী দল মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের জন্য বেশ কয়েকটি আসন ছাড়তে হচ্ছে। সব মিলে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল তা শনিবার নিরসন গেছে। এদিন রাতে গণভবনে সবার চাহিদা ও যোগ্যতম প্রার্থী ধরে আসন বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত করতে বসেছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত

আজ-কালের মধ্যে শরিকদের সঙ্গে বৈঠক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। প্রতিটি আসনে বিকল্প রেখেই এ তালিকা তৈরি হচ্ছে। চার দিনের সাক্ষাৎ শেষে পার্লামেন্টারি বোর্ড টানা তিন দিন বৈঠক করে এ খসড়া তালিকা তৈরি করে।

আজ-কালের মধ্যে এ খসড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হতে পারে। ওই তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান। খসড়া তালিকায় যাদের নাম থাকবে তাদের দলীয় মনোনয়ন ফরম দেয়া হবে। আজ-কালের মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ ফরম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে।

সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোটের শরিক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য যেসব আসনে ছাড় দেয়া হবে, সে তালিকাও তৈরি করেছে বিএনপি। ২০ দলীয় জোটের শরিক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬০টি আসনে ছাড় দেয়া হতে পারে।

জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে বিএনপি। আজ-কালের মধ্যেই এ বৈঠক হবে। জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কিছু আসনে এখনও সমঝোতা হয়নি। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এরপর দল, জোট ও ফ্রন্টের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণার পর তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, তৃণমূলের মতামত এবং সবকিছু বিবেচনা করে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। অতীতে দলের প্রতি তার কতটা অবদান আছে সে বিষয়টিও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ বিবেচনায় আনা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, শরিক ও ফ্রন্টের সঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়নি। শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। প্রার্থী চূড়ান্তে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারিত হলেও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর।

বাছাই ২ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ৯ ডিসেম্বর। প্রার্থীর নাম ঘোষণার ক্ষেত্রে বিএনপি প্রায় শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ঝুঁকি এড়াতে আপাতত একাধিক বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কমিশনে জমা দিলেও চূড়ান্তভাবে একজনকে রেখে বাকিদের প্রত্যাহার করতে বলা হবে।

প্রার্থীদের কাছ থেকে আগেই এ ব্যাপারে হলফনামা বা অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করিয়ে রাখা হবে। যাতে বিএনপি চিঠি দিলেও একটি বাদে অন্য প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষে খসড়া তালিকা তৈরিতে টানা তিনদিন বৈঠক করে পার্লামেন্টারি বোর্ড। শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত তারা এ বৈঠক করেন। এ তালিকায় প্রতিটি আসনে দুই বা তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী রাখা হয়েছে। তবে প্রায় অর্র্ধশত আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কোনো কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই আসনটি যাতে শূন্য না থাকে সে জন্য বিকল্প হিসেবে একজন করে ডামি প্রার্থী রাখা হয়েছে। যেসব আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে তার মধ্যে আছেন- ঠাঁকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কুমিল্লা-২ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, নাটোর-২ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভোলা-৩ মেজর (অব.) এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২ আমান উল্লাহ আমান, নোয়াখালী-৩ বরকতউল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী লক্ষ্মীপুর-৩, কক্সবাজার-১ সালাহউদ্দিন আহমেদ, নরসিংদী-২ ড. আবদুল মঈন খান, নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন, চট্টগ্রাম-১০ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

সূত্র জানায়, প্রায় প্রতিটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী রাখা হবে। কোনো কারণে প্রথম পছন্দের প্রার্থিতা বাতিল হলে দ্বিতীয়জনকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে। দলের পাশাপাশি জোট বা ঐক্যফ্রন্টের আসনেও বিকল্প প্রার্থী রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।

সূত্র জানায়, এবার মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রার্থী চূড়ান্তে এলাকায় গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নিজস্ব অবস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

এর যুক্তি হিসেবে মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি। শতভাগ পারবে বলেও মনে হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বর্তমানে প্রতিটি এলাকায় বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে আছে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে এলাকায় যাদের প্রভাব রয়েছে তারা ছাড়া সম্ভব হবে না।

নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে যাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন, সেই বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে। এসব বিবেচনা করে অনেক আসনে নতুন মুখের পাশাপাশি পুরনো অনেক মুখ দেখা যেতে পারে।

সূত্র জানায়, গত বছর ১৬ জুলাই লন্ডন যান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেই সময় তিনশ’ আসনের সম্ভাব্য একটি তালিকা তারেক রহমানের কাছে দেন। এবার পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করেছে সেটাও তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হবে। দুই তালিকা সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত করবেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে। শরিকদের কোন কোন আসন ছাড় দেয়া হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য তালিকাও প্রস্তুত করেছে বিএনপি। শেষ মুহূর্তে শরিকরা আসন নিয়ে দরকষাকষি করতে পারে। সেই বিষয়টিও মাথায় রাখছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াত এবং এলডিপি অগ্রাধিকার পাবে। তবে জামায়াতের সঙ্গে আসন বণ্টন খুব সহজ হবে না। দলটি এবার কমপক্ষে ৪০টি আসন চাইছে, যা সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের চেয়ে পাঁচটি বেশি।

নানা কারণে, এবার তাদের আগের অবস্থান নেই। তাই প্রার্থী সংখ্যা আগের চেয়ে কমই ছাড় দেয়া হবে। বিএনপি এবার সর্বোচ্চ ২০ আসনে জামায়াতকে ছাড় দিতে চায়। শেষ পর্যন্ত জামায়াত এতে রাজি না হলে আরও ২টি আসন ছাড়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, শুরুতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ধানের শীষের হয়ে লড়বে। আজ-কালের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এসব আসনেও বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রাখা হবে।

সূত্র জানায়, বিএনপির খসড়া তালিকায় এলডিপির কয়েকজনের নামও রয়েছে। এদের মধ্যে এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪), ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), আবদুল করিম আব্বাসীর নাম (নেত্রকোনা-২) রয়েছে।

আরও ২-৩টি আসন এলডিপির পক্ষ থেকে চাওয়া হতে পারে। এ নিয়ে আজ তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। ভোলা-১ আসনের জন্য বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থকে ছাড় দেবে বিএনপি।

এ ছাড়া ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিকদেরও একটি বা দুটি করে আসন দেয়ার কথা আলোচনা হয়েছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে। এর মধ্যে কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের জন্য চট্টগ্রাম-৫, জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান পঞ্চগড়-২, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান নীলফামারী-১, জমিয়তে ওলামায়ের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের জন্য যশোর-৫, যশোর-৪-এর বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসনের জন্য খসড়া তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে শরিকদের আসনে বিকল্প হিসেবে বিএনপির প্রার্থীও রাখা হবে। চূড়ান্তভাবে একজনকে রেখে বাকিদের প্রত্যাহার করতে বলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করতে রাজি নন। দল ও জোট শরিকদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন করতে চাইলে ঢাকা-১০ অথবা ফেনীর একটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। তবে ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে ঢাকা-১২ খসড়া তালিকায় রাখা হয়েছে।

মোস্তফা মহসীন মন্টুর জন্য ঢাকা-৭, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর জন্য ঢাকা-৬, ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের নাম মৌলভীবাজার-২ আসনের জন্য তালিকায় রয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জন্য জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কুমিল্লা-৪ আসনে আবদুল মালেক রতন নির্বাচন করতে চান। জেএসডি আরও দু-একটি আসনের জন্য দরকষাকষি করছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নাম টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮- এই দুই আসনের একটির জন্য থাকছে। ঢাকা-১৩ আসনও তার নাম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে টাঙ্গাইল-৮ আসনের বদলে কাদের সিদ্দিকী রাজি হলে ঢাকা-১৩ আসন ছাড়বে বিএনপি। খসড়া তালিকায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-২ আসনে রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন যুগান্তরকে বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। শিগগির আসন চূড়ান্তে এ বৈঠক হবে। আসন বণ্টন নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আশা করেন তিনি।

জানতে চাইলে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো আলোচনা হয়নি। অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে। শিগগির জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আসন ভাগাভাগিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।