বিএনপির ‘খসড়া’ প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত আড়াইশ’ আসনে ভাগ্যবান কারা

SHARE

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকে বাছাই করে ‘খসড়া’ প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে বিএনপি। তিনশ’ আসনের মধ্যে পঞ্চাশটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের জন্য রেখে বাকি আড়াইশ’ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থীদের এ তালিকা তৈরি করেছে দলটির মনোনয়ন বোর্ড। যোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার মতো জনপ্রিয় নেতাদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করতে গত তিন দিন সিরিজ বৈঠক করছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। বৈঠকে নবম সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা, দলের বিভিন্ন মাঠ জরিপে এগিয়ে থাকার প্রতিবেদন, তৃণমূলের সুপারিশ, দলের জন্য ত্যাগী ভূমিকা এবং বিজয়ী হওয়ার মতো যোগ্য ও শক্তিশালী বিবেচনা করে এ খসড়া তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। খসড়া তালিকাটি দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন নির্বাচনী মিত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও পুরনো নির্বাচনী মিত্র ২০ দলীয় জোটের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আজ রোববার বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। দলের দুই শীর্ষ নেতা এবং শরিক দুই জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার পর জোটগত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এরই মধ্যে জোটের শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপিকে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি জোটের শরিকদের বিজয়ী হওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থীদের জন্য অর্ধশত আসন রেখেছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে বিএনপি রাজধানীর বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন দিতে চায়। তবে ওই সব শীর্ষ নেতা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনে লড়তে চান। এ পরিস্থিতিতে আসন বণ্টন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপি।

সূত্র জানায়, দলের সিনিয়র নেতাদের আসনে একজন করে চূড়ান্ত করে মনোনয়ন বোর্ড। তবে কোনো কারণে নির্বাচনী ঝামেলা হলে একজন করে বিকল্প প্রার্থীও রাখা হয়েছে এসব আসনে। আর অন্যান্য আসনে দু’জন করে বিকল্প এবং ক্ষেত্রবিশেষে তিনজন করেও বিকল্প প্রার্থীর খসড়া করা হয়েছে। যেসব আসনে মূল প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেসব এলাকায় মূলত তিনজন করে প্রার্থী বিকল্প রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিএনপি মনোনয়ন বোর্ডের গুলশানে দলের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে দিনব্যাপী বৈঠক চলে। এ সময় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা টেলিফোনে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডসহ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে ১৭৫টি আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ‘খসড়া’ তালিকায় স্থান পাওয়াদের নাম পাওয়া গেছে। নিচে তাদের নামগুলো আসনওয়ারি তুলে ধরা হলো :

রংপুর বিভাগ : ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩), লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান (দিনাজপুর-২), রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫), শামসুজ্জামান (নীলফামারী-২), বেবী নাজনীন (নীলফামারী-৪), সালেহ উদ্দিন হেলাল (লালমনিরহাট-২), আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট-৩), এমদাদুল হক ভরসা (রংপুর-৪), সাইফুর রহমান রানা (কুড়িগ্রাম-১), তসবিরুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-৩)।

রাজশাহী বিভাগ : ফয়সাল আলিম (জয়পুরহাট-১), ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা (জয়পুরহাট-২), মো. শোকরানা (বগুড়া-১), ডা. জিয়াউল হক মোল্লা (বগুড়া-৪), জি এম সিরাজ (বগুড়া ৫), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুনুর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), ডা. ছালেক চৌধুরী (নওগাঁ-১), সামসুজ্জোহা খান (নওগাঁ-২), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী (নওগাঁ-৩), শামসুল আলম প্রামাণিক (নওগাঁ-৪), লে. কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ খান (নওগাঁ-৫), ব্যারিস্টার আমিনুল হক (রাজশাহী-১), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা (রাজশাহী-৫), তাইফুল ইসলাম টিপু (নাটোর-১), অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), কনকচাঁপা (সিরাজগঞ্জ-১), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (সিরাজগঞ্জ-২), আবদুল মান্নান তালুকদার (সিরাজগঞ্জ-৩), এ কে এম সেলিম রেজা (পাবনা-২), কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (পাবনা-৩), হাবিবুর রহমান হাবিব (পাবনা-৪)।

খুলনা বিভাগ : মাসুদ অরুণ (মেহেরপুর-১), আমজাদ হোসেন (মেহেরপুর-২), রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা (কুষ্টিয়া-১), অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন (কুষ্টিয়া-৩), সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমি (কুষ্টিয়া-৪), শামসুজ্জামান দুদু (চুয়াডাঙ্গা-১), মাহমুদ হাসান বাবু (চুয়াডাঙ্গা-২), আবদুল ওহাব (ঝিনাইদহ-১), মশিউর রহমান (ঝিনাইদহ-২), কণ্ঠশিল্পী মনির খান (ঝিনাইদহ-৩), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (ঝিনাইদহ-৪), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩), টি এস আইউব (যশোর-৪), আবুল হোসেন আজাদ (যশোর-৬), অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২), এম এ সালাম (বাগেরহাট-২), ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩), আমির এজাজ খান (খুলনা-১), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রফিকুল ইসলাম বকুল (খুলনা-৩), আজিজুল বারী হেলাল (খুলনা-৪), হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১)।

বরিশাল বিভাগ : অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন (বরগুনা-২), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী-১), এ বি এম মোশাররফ হোসেন (পটুয়াখালী-৪), হাফিজ ইব্রাহিম (ভোলা-২), মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩), নাজিম উদ্দিন আলম (ভোলা-৪), জহিরউদ্দিন স্বপন (বরিশাল-১), সেলিমা রহমান (বরিশাল-৩), মেজবাউদ্দিন ফরহাদ (বরিশাল-৪), সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (বরিশাল-৫), আবুল হোসেন খান (বরিশাল-৬), ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (ঝালকাঠি-১), ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি-২)।

ঢাকা বিভাগ : অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার (নারায়ণগঞ্জ-১), মাহমুদুর রহমান (নারায়ণগঞ্জ-২), ফকির মাহবুব আলম স্বপন (টাঙ্গাইল-১), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-২), লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩), মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান (টাঙ্গাইল-৫), আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭), অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (কিশোরগঞ্জ-৪), শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫), শরিফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬), বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু (মানিকগঞ্জ-১), আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ-২), মাইনুল ইসলাম শান্ত (মানিকগঞ্জ-৩), শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (মুন্সীগঞ্জ-১), মিজানুর রহমান সিনহা (মুন্সীগঞ্জ-২), আব্দুল হাই (মুন্সীগঞ্জ-৩), আব্দুল মান্নান (ঢাকা-১), আমানউল্লাহ আমান (ঢাকা-২), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), সালাহউদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৫), হাবিব-উন-নবী খান সোহেল (ঢাকা-৮), মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৯), এমএ কাইয়ুম (ঢাকা-১০), এসএ সাজু (ঢাকা-১৪), মামুন হাসান (ঢাকা-১৫), মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী (ঢাকা-১৭), ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (ঢাকা-১৯), কাজী সাইয়ে্যদুল ইসলাম বাবুল (গাজীপুর-৩), মুনির হোসেন (গাজীপুর-৫), খায়রুল কবীর খোকন (নরসিংদী-১), ড. আবদুল মঈন খান (নরসিংদী-২), সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল (নরসিংদী ৪), আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (রাজবাড়ী-১), নাসিরুল হক সাবু (রাজবাড়ী-২), শাহ মোহম্মদ আবু জাফর (ফরিদপুর-১), শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (ফরিদপুর-২), চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ (ফরিদপুর-৩), সেলিমুজ্জামান সেলিম (গোপালগঞ্জ-১), সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (গোপালগঞ্জ-২), এস এম জিলানী (গোপালগঞ্জ-৩), খলিলুর রহমান চৌধুরী ঠাণ্ডু (মাদারীপুর-১), মিয়া নূরুদ্দিন অপু (শরীয়তপুর-৩)।

সিলেট বিভাগ : নাছিরউদ্দিন চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-২), ফজলুল হক আসপিয়া (সুনামগঞ্জ-৪), কলিমুদ্দিন আহমেদ মিলন (সুনামগঞ্জ-৫), ইনাম আহমেদ চৌধুরী (সিলেট-১), তাহমিনা রুশদির লুনা (সিলেট-২), শফি আহমেদ চৌধুরী (সিলেট-৩), এবাদুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-১), এম নাসের রহমান (মৌলভীবাজার-৩), হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-৪), ডা. সাখাওয়াত হোসেন খান জীবন (হবিগঞ্জ-২), সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল (হবিগঞ্জ-৪)।

ময়মনসিংহ বিভাগ: মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (জামালপুর-৩), ফরিদুল তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী (শেরপুর-২), মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩), সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ময়মনসিংহ-১), শাহ শহীদ সারওয়ার (ময়মনসিংহ-২), ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন (ময়মনসিংহ-৩), ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (ময়মনসিংহ-৪), আখতারুল আলম ফারুক (ময়মনসিংহ-৬), ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন (ময়মনসিংহ-৭), নুরুল কবীর শাহীন (ময়মনসিংহ-৮), খুররম খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯), ফখরুদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু (ময়মনসিংহ-১১), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী (নেত্রকোনা-৪)।

চট্টগ্রাম বিভাগ : ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী (কুমিল্লা-৪), শওকত মাহমুদ (কুমিল্লা-৫), আমিন উর রশিদ ইয়াসিন (কুমিল্লা-৬), জাকারিয়া তাহের সুমন (কুমিল্লা-৮), আবুল কালাম (কুমিল্লা-৯), একরামুজ্জামান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১), উকিল আবদুস সাত্তার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), প্রকৌশলী খালেদ মাহবুব শ্যামল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), মুশফিকুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), কাজী তাপস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), আ ন ম এহছানুল হক মিলন (চাঁদপুর-১), শেখ ফরিদউদ্দিন আহমেদ (চাঁদপুর-৩), হারুনুর রশিদ (চাঁদপুর-৪), চাঁদপুর-৫ ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, খালেদা জিয়া অথবা আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-১), ভিপি জয়নাল আবেদীন (ফেনী-২), আবদুল আউয়াল মিন্টু অথবা আব্দুল লতিফ জনি (ফেনী-৩), ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন (নোয়াখালী-১), জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২), বরকতউল্লাহ বুলু (নোয়াখালী-৩), মো. শাহজাহান (নোয়াখালী-৪), ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ (নোয়াখালী-৫), ফজলুল আজিম (নোয়াখালী-৬), আবুল খায়ের ভূঁইয়া (লক্ষ্মীপুর-২), শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী (লক্ষ্মীপুর-৩), মোস্তফা কামাল পাশা (চট্টগ্রাম-৩), লায়ন আসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪), এম মোরশেদ খান (চট্টগ্রাম-৭), ডা. শাহাদাত হোসেন (চট্টগ্রাম-৮), আবদুল্লাহ আল নোমান (চট্টগ্রাম-৯), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১০), সৈয়দ সাদাত আহমেদ (চট্টগ্রাম-১২), জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৬), হাসিনা আহমেদ (সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী) (কক্সবাজার-১), লুৎফর রহমান কাজল (কক্সবাজার-৩), শাহজাহান চৌধুরী (কক্সবাজার-৪), আবদুল ওদুদ ভূঁইয়া (খাগড়াছড়ি-১), দীপেন দেওয়ান (রাঙামাটি-১)।