‌‘জামায়াত ও তারেকের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোনো সম্পর্ক নেই’

SHARE

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জামায়াত ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সম্পর্ক নেই। এই ঐক্য শুধু নির্বাচন সামনে রেখে। নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার দাবি আদায়ে আমরা এক হয়েছি। এই বিষয়টি আমি সবাইকে পরিষ্কার করতে চাই। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন আমরা কী জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছি? জবাবে বলতে চাই- মোটেই না। তারেক রহমানের সঙ্গেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তার সঙ্গে আমার কোনো কথাও হয়নি, যেগাযোগ করার প্রয়োজনও মনে হয় না। ঐক্য হয়েছে বিএনপির সঙ্গে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, ‘যারা ক্রমাগতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ, ভিত্তিহীন ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন, তাদেরকে আমি এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করে যাব।’

ড. কামাল তার লিখিত বক্তব্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত সাত দফা দাবি পুনরুল্লেখ করেন। দাবি আদায়ে ঐক্যফ্রন্ট কঠোর আন্দোলনে যাবে কিনা এবং সরকার যদি দাবি না মানে তাহলে ফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে কিনা- এরকম এক প্রশ্নের জবাবে ফ্রন্ট নেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি, শুক্রবার পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করব, সিলেটে সমাবেশ করবো, এরপর চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতেও সমাবেশ করবো। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এভাবে জনমত গঠনের চেষ্টা করছি। এটাও একটা আন্দোলন। আর সরকার যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের কোনো দাবিই না মানে তাহলে সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সে ব্যাপারে তখন গভীরভাবে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ঐক্যফ্রন্টের দাবি সংবিধানসম্মত নয়, সংবিধানের বাইরের কোনো দাবি মানা হবে না। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কামাল হোসেন বলেন, তার (ওবায়দুল কাদেরের) বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। ‘ঐক্যফ্রন্ট হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’- সরকারি দলের নেতাদের এই বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ‘চক্রান্ত’ ‘ষড়যন্ত্র’ এসব ভাষা কম ব্যবহার হওয়া ভালো।

সংসদে ড. কামাল ও ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসবকে আমরা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না। আলোচনা হওয়া তো ভালো, আলোচনা হোক। টিভি টকশোতে একজন নারী সাংবাদিককে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ‘চরিত্রহীন’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল বলেন, মইনুল হোসেনের এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মণ্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, মোস্তাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।