আড়াইহাজারে উদ্ধার হওয়া ৪ লাশের পরিচয় মিলেছে

SHARE

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উদ্ধার হওয়া চার যুবকের লাশের পরিচয় মিলেছে।

তারা হলেন- লুৎফর রহমান মোল্লা, সবুজ সরদার, ফারুক প্রমানিক ও জহিরুল।এর মধ্যে সবুজ, ফারুক ও জহিরুল পাবনার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর লুৎফর রহমান মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার উত্তর আকন বাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকায়।

লুৎফর মোল্লার পরিচয় রোববার বিকালে শনাক্ত হলেও বাকি তিনজনের পরিচয় জানা যায় সোমবার সকালে।

সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে এসে নিহত সবুজ সরদার ও ফারুক প্রমানিকের লাশ শনাক্ত করেন তাদের বাবা খাইরুল সরদার ও জামাল প্রমানিক। নিহত জহিরুলের লাশ শনাক্ত করেন তার শ্বশুর নজরুল ইসলাম। এর আগে রোববার নিহত লুৎফর মোল্লার লাশ শনাক্ত করেন তার স্ত্রী রেশমা আক্তার।

এদিকে আড়াইহাজার উপজেলায় চার যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করেছে। রোববার রাতে আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিউদ্দৌলা বাদি হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

নিহত লুৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা আক্তার জানান, তার স্বামী গাড়ি চালক। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বাসা থেকে বের হন। রাত ১টায় স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। রোববার সকালে টেলিভিশনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৪ জনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে ছুটে আসেন তিনি।

রেশমা জানান, লুৎফর রাজধানীর রামপুরা থানার বাগিচারটেক এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার উত্তর আকন বাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকার মুনসুর মোল্লা ছেলে।

নিহত ফারুকের বাবা জামাল প্রমানিক বলেন, ১৫ বছর যাবত রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় বাস চালাতো ফারুক। গত ১৫ অক্টোবর ডিবি পরিচয়ে ঢাকার গাউছিয়া থেকে একই গ্রামের ৪ জনকে ধরে নিয়ে যায়। যার মধ্যে ৩ জনের লাশ আড়াইহাজারে পাওয়া গেছে।

সবুজ সরদারের স্বজনরা জানান, সবুজ ঢাকায় বেকারিতে চাকরি নেয়ার কথা বলে ২ সপ্তাহ আগে গ্রাম ছাড়েন।

নিহত জহিরুলের শ্বশুর নজরুল বলেন, জহিরুল বেকারিতে কাজ করতো। জহিরুলকে বেকারিতে কাজ দেওয়ার কথা বলে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল ফারুক। ফারুক ছিনতাইতারী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে শুনেছি। ফারুকই গ্রাম থেকে তিনজনকে শহরে নিয়ে এসেছে কাজ দেওয়ার কথা বলে।

এদিকে উদ্ধার হওয়া ৪ যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ৪টি লাশের মধ্যে তিনজনের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে চারজনেই মাথার পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছে। এবং ভারী কোন বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখমন্ডল থেঁতলে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার রাতের কোন এক সময় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার সকালে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশ থেকে ৪ যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই সময় লাশের পাশ থেকে দুটি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।