জাতিসংঘে নালিশ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বিএনপি- তোফায়েল আহমেদ

SHARE

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জাতিসংঘে নালিশ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা আরেক দফায় নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরও প্রমাণ দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধির সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও বাস্তবে সেটা হয়নি। বিস্ময়করভাবে বিএনপি মহাসচিব জাতিসংঘের একজন ডেক্স কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে দলটির রাজনৈতিক অসহায়ত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায় জাতিসংঘের ওই ধরনের কর্মকর্তার কোনো ক্ষমতা নেই।

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির সঙ্গে তুলনা করা হলেও এখন সেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। একদিন যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল, তারাই এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণের কারণেই এই স্বীকৃতি এসেছে।

‘বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রশংসা করছেন’ এমন মন্তব্য করে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তার দক্ষ, গতিশীল এবং সৃজনশীল নেতৃত্ব দিয়ে সব বাধা ডিঙিয়ে বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এ কারণে প্রিয় মাতৃভূমির মধ্যললাটে এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের গৌরব টিকা। সব ক্ষেত্রেই এখন বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থান।

এ কারণেই আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন আবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলে মনে করছেন সরকারি দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক তোফায়েল আহমেদ। তার কড়া হুঁশিয়ারি, বিএনপি অতীতের মতো আন্দোলনের নামে গোলযোগ সৃষ্টি করলে এর ফল হবে মারাত্মক। অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা করা নির্ধারিত তারিখেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অপশক্তি ওই নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। এর কোনো সুযোগও নেই।

সমকালের সঙ্গে বর্তমান রাজনীতি ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদ আরও বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজের বাড়ির দরজা বন্ধ রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সংলাপও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০১৪ সালের মতো এবারও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এ জন্য সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ। তবে তার স্পষ্ট কথা, কিছুতেই জোর করে কিংবা হুমকি দিয়ে দাবি আদায় করা যাবে না। জাতীয় ঐক্যের নামে অরাজকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হলে দেশের মানুষ কোনোভাবেই সেটা মেনে নেবে না। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে মনে করছেন তোফায়েল আহমেদ। তার ভাষায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা পায়নি বিএনপি। ওই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের এমপিরা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন এবং ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীকে ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত করেছেন।

গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিএনপির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শতভাগ আন্তরিকতা ও শতচেষ্টার পরও বিএনপি গত নির্বাচনে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার পাশাপাশি পছন্দের মন্ত্রণালয় নেওয়ার আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সময়ে নির্বাচন বানচাল করে তৃতীয় শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনার জন্য খুন-খারাবির রাজনীতি করেছিল বিএনপি।

তথাকথিত আন্দোলনের নামে হরতাল-অবরোধ ডেকে বিএনপি অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছিল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেছেন, বিএনপি ওই সময়ে পেট্রোল বোমার বিস্ম্ফোরণ ঘটিয়ে বহু মায়ের কোল খালি করেছিল। ২৪ জন পুলিশ সদস্য এবং পাঁচজন প্রিসাইডিং অফিসার খুন হয়েছিল। কমপক্ষে পাঁচশ’ পোলিং বুথ পোড়ানো হয়েছিল। এত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েও সফল হয়নি বিএনপি। ওরা নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। জনগণের স্বতঃস্ম্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে অবাধ নির্বাচন হয়েছে।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বলেছেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিলীন হয়েছে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাপ। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপিও অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। তোফায়েল আহমেদ সব রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে জাতীয় পার্টির। তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলে তারা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছে। বিএনপি নির্বাচনে লড়লে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে জাতীয় পার্টি থাকবে বলে আশা করছেন তোফায়েল আহমেদ।

প্রায় সবক’টি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, শুভবুদ্ধির উদয় হলে কথিত আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করবে না বিএনপি। তারা অনিয়মতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের আন্দোলনে গেলে আবারও জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়বে। নেতাকর্মীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি (সহসভাপতি) তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি। এর আগের ৯০ দিনের মধ্যে যে কোনো দিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে ইসির পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ওই নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

তারুণ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালনকারী তুখোড় এই সাবেক ছাত্রনেতা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আর এই মন্ত্রিসভা গঠিত হলে সেটা আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় বিএনপির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাই এই মন্ত্রিসভায় থাকবেন। এর বাইরে কারও থাকার কোনো সুযোগ নেই।

২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর গঠিত সর্বদলীয় সরকারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতিনির্ধারক নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সময়ে বিএনপিকে নিয়েই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সংলাপে না আসায় জাতীয় পার্টি, জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। বিএনপির সেই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জাতি ভুলে যায়নি।

তোফায়েল আহমেদ বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ ও মেট্রোরেলের কাজ শুরুসহ একাধিক বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ধারা বেগবান হয়েছে। রাজধানীর দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষের সচ্ছলতা বেড়েছে। নারী ও যুবশক্তির নবঅভ্যুদয় ঘটছে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত হয়েছে। জাতি এখন ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বসভায় উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তোফায়েল আহমেদ। তার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে দিনবদলের অঙ্গীকারে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কলুষমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সুন্দর এবং উন্নয়নের পথে দ্রুত অগ্রসরমান আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি বলেছেন, উন্নয়নের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশজুড়ে এখন দৃশ্যমান উন্নয়নের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।