কোরবানির পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে থাকবে ব্যাংকের বুথ

SHARE

পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে বসবে ব্যাংক।

কোরবানির পশুর হাটে নগদ লেনদেনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে নোট জালকারবারিরা। তাদের ঠেকাতে কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রাজধানীর ২২টিসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা পর্যায়ে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে বসবে ব্যাংক। এসব বুথ থেকে ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত বিনামূল্যে নোট শনাক্ত করতে পারবেন সংশ্নিষ্টরা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কোন ব্যাংককে কোন হাটে বুথ স্থাপন করতে হবে তা বলে দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকার বাইরের যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্নিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা থানার অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ওই অফিস ব্যাংকের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেবে। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, সেখানে সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখা দায়িত্ব বণ্টনের কাজ করবে।

ঢাকার পশুর হাটগুলোতে বুথ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংক থেকে একজন করে উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও ঠিকানা পাঠাতে বলা হয়েছে, যিনি সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করবেন। সার্কুলারে বলা হয়েছে, বুথে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দ্বারা বিনামূল্যে সেবা দিতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। জাল নোট ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকের নামসহ ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ লিখে ব্যানার টানাতে হবে।

সার্কুলারে প্রতিটি ব্যাংক শাখার ভেতরে প্রদর্শিত টিভি মনিটরে আসল নোট চেনার বৈশিষ্ট্য সংবলিত তথ্য নিয়ে তৈরি করা ভিডিও প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের আগের শেষ তিন কর্মদিবসে লেনদেন চলার পূর্ণ সময়ে এ ভিডিও প্রদর্শন করতে হবে। দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মকর্তাকে ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা দিতেও বলা হয়েছে।

ঢাকার যে হাটে যে ব্যাংক দায়িত্বে থাকবে : জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি হাটের মধ্যে মিরপুর-গাবতলী পশুর হাটে দায়িত্বে থাকবে সোনালী, ঢাকা, পূবালী ও সীমান্ত ব্যাংক। উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের প্রথম গোলচত্বর-সংলগ্ন হাটে থাকবে স্ট্যান্ডার্ড, শাহ্‌জালাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক। খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়ক ও দক্ষিণ পাশের বসুন্ধরা প্রাচীর-সংলগ্ন হাটে থাকবে ব্যাংক এশিয়া ও প্রাইম ব্যাংক। খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা-সংলগ্ন হাটে সেবা দেবে ট্রাস্ট ও আইএফআইসি ব্যাংক। ভাটারায় সেবা দেবে যমুনা ও ব্র্যাক ব্যাংক। বসিলা পুলিশ লাইন-সংলগ্ন হাটে দায়িত্বে থাকবে অগ্রণী ও মেঘনা ব্যাংক। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠে সেবা দেবে ওয়ান ও উত্তরা ব্যাংক। মিরপুর ৬ নম্বরে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গায় সেবা দেবে সিটি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। মিরপুর ডিওএইচএস-সংলগ্ন হাটে থাকবে ব্যাংক আল ফালাহ ও বেসিক। আর উত্তরখান মৈনারটেক শহিদনগর হাউজিং-সংলগ্ন হাটে সেবা দেবে ইস্টার্ন ব্যাংক ও বিডিবিএল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি হাটের মধ্যে খিলগাঁও রেলগেট-সংলগ্ন হাটে এবি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বুথ বসাবে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বালুর মাঠ-সংলগ্ন গোপীবাগ হাটে থাকবে এইচএসবিসি ও এনসিসি ব্যাংক। এ ছাড়া ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল- সংলগ্ন হাটে থাকবে মিডল্যান্ড ও আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে থাকবে কমার্স ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক। জিগাতলা পশুর হাটে এপিম ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, কমলাপুর স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশের হাটে এনআরবি ও এসবিএসি ব্যাংক, ধুপখোলা হাটে ডাচ্‌-বাংলা ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, পোস্তগোলায় রূপালী ও ইসলামী ব্যাংক। দনিয়ায় মধুমতি ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মেরাদিয়া বাজার-সংলগ্ন হাটে ফার্স্ট সিকিউরিটি ও কৃষি ব্যাংক, কামরাঙ্গীরচর হাটে ন্যাশনাল ও সাউথ ইস্ট ব্যাংক এবং শ্যামপুর বালুর মাঠ-সংলগ্ন হাটে সেবা দেবে জনতা, ইউসিবি ও ফারমার্স ব্যাংক।