বাংলাদেশি উবারচালক সিডনিতে বিচারের মুখোমুখি

SHARE

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে বাংলাদেশি উবারচালক নজরুল ইসলাম বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সিডনির স্থানীয় আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোয় অবহেলার দায়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনায় প্রকাশ, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম একজন উবারচালক। তাঁর বয়স ৩১। তিনি গত বছরের ১৭ জুন উবারের মাধ্যমে তিনজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্য পৌঁছানোর সময় সিডনির এলিজাবেথ স্ট্রিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত ৩টার দিকে দুই রাস্তার মোড় পার হওয়ার সময় লাল বাতি দেখে গাড়ি থামিয়েছিলেন নজরুল। সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগে পেছনের আসনে থাকা যাত্রী যুক্তরাজ্যের নাগরিক স্যামুয়েল থমাস গাড়ির দরজা খুলে বাইরে নামার চেষ্টা করেন। সবুজ সংকেত দেখে নজরুল গাড়ির গতি বাড়ালে থমাস রাস্তায় পড়ে যান এবং অপর পাশ থেকে আসা একটি বাসের চাপায় দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

এ দুর্ঘটনায় গাড়ি চালানোয় অবহেলার অভিযোগে নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে স্থানীয় পুলিশ। প্রায় এক বছর পর এ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। নজরুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে আরজি পেশ করেছেন। আদালত দুর্ঘটনায় জড়িত বাসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান লিপিবদ্ধ করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে বলা হয়, নজরুল ইসলাম গাড়ির গতি বাড়ানোর পরক্ষণেই থমাস রাস্তায় পড়ে যান এবং একটি বাসের নিচে পিষ্ট হন। তবে নজরুলের গাড়ি ও বাস দুটোই সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়। গাড়িতে থাকা থমাসের সহযাত্রী তার সহকর্মীদের একজন স্টিফেন রনিং বলেন, ‘সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার আগে দরজা খোলার শব্দ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি থমাস গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করছে। আর এর মধ্যে গাড়ি চলতে শুরু করলে আমি থামার কথা বলতে বলতেই থমাস নিচে পড়ে যায় আর একটা কিছু ফাটার শব্দ হয়।’ রনিং নিশ্চিত করে যে থমাস নামার আগে কিছুই বলেনি। বরং তিনি শব্দ করে থামার কথা বলতেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে ফেলেন চালক
সিডনির এলিজাবেথ স্ট্রিটে গত বছরের ১৭ জুন এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
সিডনির এলিজাবেথ স্ট্রিটে গত বছরের ১৭ জুন এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নজরুল ইসলাম তাঁর বয়ানে বলেন, ‘আমি না কোনো শব্দ পেয়েছি না কিছু দেখেছি। আমি শুধু শুনলাম যাত্রীরা থামাও, থামাও বলে চিৎকার করছে আর আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চাপি। সবকিছু ৫ মিটার জায়গার মধ্যেই ঘটে গেল। তারপর আমরা বাইরে গেলাম আর একটা মৃতদেহ দেখলাম। আমি পুলিশে ফোন করলাম।’

নজরুল আদালতে আরও বলেন, তিনি ১৬ জুন সকাল ৬টায় উবার চালানো শুরু করেন এবং পরদিন ভোরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে এ দীর্ঘ সময় উবার চালানোর সময় তিনি দুবার বিরতি নিয়ে কয়েক ঘণ্টা করে ঘুমিয়েছেন।

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আলী চিমা আদালতে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা কিন্তু তাঁর মক্কেলের কোনো অবহেলা ছিল না।